আরিফুলের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিসিক নির্বাচনে বিভক্ত বিএনপি

ariful.png

ডেস্ক নিউজ: আগামী ৩০ শে জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলেও সদ্য বিদায়ী মেয়র এবং বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে কেন্দ্র করে দলের নির্বাচনী প্রচারে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। আরিফুলের স্বেচ্ছাচারিতাই এই বিভক্তির কারণ বলে নানা সূত্রে জানা যায়।

সূত্র বলছে, সিলেটে বিএনপির বিভক্তি অনেক পুরনো। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সিলেটে বিএনপির কোন্দল চরমে ওঠে। তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সিলেট-২ আসনের এমপি ইলিয়াস আলীর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে। সিলেটে বিএনপি সাইফুর বলয় ও ইলিয়াস বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে প্রভাবশালী ছিলেন তৎকালীন নগর বিএনপির সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর সিলেট বিএনপিতে প্রভাব বিস্তার করেন ইলিয়াস আলী। পরে তিনি নিখোঁজ হলে তার অনুসারীরা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সাইফুর বলয়েও ফাটল দেখা দেয়। সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই গ্রুপিং এবার চরম আকার ধারণ করেছে।

সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু তার সাথে দ্বন্দ্বের কারণে মেয়র পদে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। এছাড়াও আরিফের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহ্বায়ক শামসুজ্জামান জামান। সিলেট বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বারবার কেন্দ্রীয় বিএনপি উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সফল হয়নি। শুধু দলের মধ্যেই বিভক্তি নয়; বিএনপি জোটগতভাবেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় এবং জোটগতভাবে একক প্রার্থী দাঁড় করাতে পারলেও বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রার্থী থাকায় উভয় সংকটে পড়েছেন আরিফুল।

মেয়র থাকাকালীন দলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করা, একক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সিলেট বিএনপিতে নিজের বলয় তৈরি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব কারণে ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুলের সাথে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি ব্যক্তিগত পছন্দ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না বলে দলের জেলা ও মহানগর সভাপতি-সম্পাদকের অভিযোগ ছিল।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আরিফুলের সাথে ছিলেন না দলের মহানগর সম্পাদক বদরুজ্জমান সেলিম। তবে হঠাৎ করে শেষদিকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তিনি মেয়রপদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সেলিম নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির প্রার্থী আরিফকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মুখে পড়তে হয়েছে একক প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন বলে তাদের অভিমত। আরিফুল শিবিরের বিভক্তির কারণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর জয়ের পাল্লা ভারি বলেও মনে করেন তারা।