টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকসহ সকল অপকর্মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত

yaba_tt-pic_345678-1.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফের হ্নীলার মোছনী নয়াপাড়া ও লেদা রেজিঃ ও আনরেজিষ্টার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির হচ্ছে, মাদকসহ সকল অপকর্ম, অশ্লীলতার মূল ঘাটি। এ দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প একটি ক্রাইম জোন হিসাবে পরিনত হয়েছে। মাদক, চোরাচালান, নারী অস্ত্রধারী, শিশু পাচার, খুন, ডাকাতী, চুরি, অপহরণ, যৌনবাণিজ্যসহ বিভিন্ন অসমাজিক কার্যকলাপের মূল ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে মোছনী নয়াপাড়া ও লেদা এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক সিন্ডিকেট কর্তৃক এসব অপকর্ম ও অপরাধ পরিচালিত হয়ে আসছে। লেদা, আলিখালী ও রঙ্গীখালী শীর্ষ মাদক তালিকাভূক্ত ও নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে মাদক চোরাচালানসহ অপকর্মকে মূল হাতিয়ার ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এমন কোন দিন নেই যে, এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপকর্ম হচ্ছে না। ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে এসব অপকর্ম, নানা অপরাধ অশ্লীলতা জন্ম দিচ্ছে, নানা অপরাধ প্রবণতা। ক্যাম্প ২টি পাহাড় সংলগ্ন বিধায় এখানে যে কোন অপরাধ প্রবনতা করতে আশ্রিত রোহিঙ্গারা পরওয়া করেনা। স্থানীয় আশ পাশের মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা ওদেরকে ভাড়াটে হিসাবে ব্যবহার করছে। মোচনী, নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২টি এখন মাদক/ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। এর পাশাপাশি চলছে, ডাকাতী, খুন, মানবপাচারকারী সহ সকল অপকর্ম। স্থানীয় পাহাড়ের আস্থানায় চলে মাদকসহ সকল, অপকর্মের পরিকল্পনা এবং অর্জিত টাকার ভাগাভাগি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির জন্য নয়াপাড়া মোচনী ক্যাম্প ও লেদা ক্যাম্প অনেকাংশে দায়ী মনে করেন। কেননা বর্তমান ও অতীতে অনেক খুনাখুনী ছাড়া ও আনসার ক্যাম্পের আনসার হত্যাসহ অহরহ ডাকাতী সংগঠিত হয়েছে। যার নেপথ্যে রোহিঙ্গা ডাকাত ও স্থানীয় প্রভাবশালীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ রয়েছে। যেমন অতীতে বক্কর মেম্বার আবুল কাসেম খুনের শিকার হয়েছিল। এর মূলে রয়েছে, প্রভাব প্রতিপত্তি ও আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বর্তমানে ও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি, লেদা পাহাড়ে মৃত আবুল কাসেমের পুত্র ও শীর্ষ তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হুদা মেম্বারের ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী শামসুল আলম ও লেদা বি ব্লকের রোহিঙ্গা যুবক রহিম উল্লাহ খুন হয়েছিল। এ খুনের নেপথ্যে অনেকের মতে মাদক সংক্রান্ত অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে। আলোচিত এ ২টি ক্যাম্প নিয়ন্ত্রন করছেন, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, আলীখালী, রঙ্গীখালী, পানখালী ও উলুচামরীর শীর্ষ ও নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি এ ক্যাম্প ২টি সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ভেসে উঠেছে। ওরা রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে মাদক/ইয়াবা ব্যবসা ও পাচারের সাথে জড়িত হয়ে অনেকেই রাতারাতি আংগুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে। ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আতœীয়তা এবং স্থানীয় মাদক/ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নাফ নদী হয়ে সরাসরী নয়াপাড়া, লেদা ও আনোয়ার মৎস্য প্রজেক্ট এলাকার আশ পাশে খালাস হয়। গত ৯-১০ বছরে এ সুবাধে লেদা আলীখালী রঙ্গীখালী, পানখালী ও উলুচামাড়ী এলাকায় যারা মাদক/ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার করে বিত্তশালী বনে যায়, তাদের মধ্যে আলীখালীর জামাল মেম্বার, লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, ফুলের ডেইলের বাবুল মেম্বার, পূর্ব লেদার লাল মিয়ার পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর সহ অনেকেই।

বর্তমানে লেদার জাহাঙ্গীর ইয়াবা স¤্রাটে পরিনত হলেও আইন শৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার খাতায় তার নাম নেই। সে ফুটবল খেলাকে পূঁজি করে এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের বদৌলতে বিপুল পরিমাণ কালোটাকার মালিক বনে গেছে। তার নির্মিত অত্যাধুনিক রাজ প্রাসাদ বাড়ীটি দেখলে অনেকেই মনে করবে সে বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী। নির্ধারিত ও দৃশ্যমান কোন ধরনের আয়ের উৎস ছাড়াই সে কিভাবে এতো বড় রাজপ্রাসাদ বাড়ী ও জায়গা জমি, ট্রাক, বাস, নোহা ও প্লাটের মালিক বনে গেলেন, তাহা সকলের কাছে ভাবিয়ে তুলেছে।