জিয়া পরিবারের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের কালপঞ্জি

-পরিবার1.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক: সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিথ্যাচারে মেতেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান উন্নয়ন ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতায় গা জ্বালা নিয়ে তারেক রহমানের বিশেষ প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে স্বগর্ভে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই সারা বিশ্বে বাংলাদেশের বদনাম করতে মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সরকারকে বিব্রত করার মিশনে অন্ধভাবে কাজ করছে বিএনপি। বাংলাদেশ নিজ সক্ষমতায় পদ্মা সেতুর মতো একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নতি ও সেবা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ আর কারো মুখাপেক্ষী নয়। সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির রোল মডেল। এসব কারণে বিশ্বের বড় বড় ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। কারো উপর নির্ভর না করেই বাংলাদেশ সরকার বড় বড় স্থাপনা নির্মাণের যে সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছে তাতে সমালোচনাকারীদের রাতের ঘুম নষ্ট হওয়ারই কথা। যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, গ্রামীণ উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় যে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ, বাস্তবেই সেটি ঈর্ষনীয়। বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র পাল্টে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। স্বপ্নের বাংলাদেশ আর দূরে নয়।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সমঅধিকার ও সুবিচার নিশ্চিতের বাংলাদেশ আজ বিশ্বে অনুকরণীয়। আর এই উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের পথচলাকে রুখে দিতে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামায়াত এবং কয়েকটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখতে, নিজেদের আয়ত্বে রাখতে এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এতটা বোকাও না। মানুষ বিএনপি-জামায়াত ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের কুপরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে। সেটার উপযুক্ত প্রমাণ হলো- সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয়। বাংলাদেশের মানুষ ভালমতোই জানে, বিগত সময়ে দেশ শাসনের নামে বাংলাদেশে কী পরিমাণ দুর্নীতি ও চুরি করেছে বিএনপি। বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষ শুধুই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়নি বরং মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল। ক্ষমতায় থাকাকালীন জিয়া পরিবার দুর্নীতিতে এতটাই পারদর্শী ছিল যে, বিশ্বের দুর্নীতিবাজ পরিবারের তালিকার শীর্ষেই তাদের অবস্থান ছিল। পুরো বাংলাদেশকেই পরপর পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল খালেদা জিয়া ও তার পলাতক ছেলে তারেক রহমান।

ক্ষমতায় থাকতে তারেক রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, যে পরিমাণ দুর্নীতি ও চুরি করেছেন তাতে পরবর্তীতে দেশের মানুষ তাদেরকে আর ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে না। তাই ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে লাগেজ ভর্তি টাকা সৌদিতে পাঠায় জিয়া পরিবারের সদস্যরা। দেশটিতে জিয়া পরিবার ১২০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে ব্যবসা সাজিয়ে রাখে। এছাড়া বিশ্বের ১২টি দেশে খালেদা-তারেকের ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ রয়েছে। শুধু মালয়েশিয়ায় কোকোর ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারের ব্যবসা ও সম্পত্তি রয়েছে। দেশ থেকে পালিয়ে লন্ডনে ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে তারেক রহমান ৮০ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ সম্পদ বানিয়েছেন, যেটি বাংলাদেশের মানুষের হকের টাকা ছিল। বেলজিয়ামের মতো দেশেও জিয়া পরিবারের ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ও বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশিদের সেকেন্ডহোম খ্যাত মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে তারেক সেখানেও নিজের বসবাস নিশ্চিত করেছেন। যদি লন্ডন থেকে পালাতে হয়, তাহলে মালয়েশিয়াকে বেছে নিবেন তারেক। ট্যাক্স হেভেনে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। কেইম্যান আইল্যান্ড এবং বারমুডায় তারেকের ২ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা রয়েছে। দুবাইতে জিয়া পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি রয়েছে। যেগুলোর ভাড়ার টাকা সরাসরি তারেক রহমানের হাতে যায়। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে সিটিএনএ ব্যাংকে তারেক ২১ কোটি টাকা পাচার করেছেন। শোনা গেছে, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করে ২০ কোটি টাকা এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই লেনদেন করেছেন তারেক রহমান।