আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই বুলবুলের পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণ

Rajshahi.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পূর্ব পরিকল্পিত বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের একচেটিয়া জনপ্রিয়তা নষ্ট করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া মোড়ে বুলবুল যখন গণসংযোগে ব্যস্ত তখন তিনটি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারীরা পরপর তিনটি ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের হাতে শটগান ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তারা বলেন, মোটর সাইকেল আরোহীরা বিএনপির সমর্থক। কারণ হামলা করার সময় তারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দেয়। যা বিএনপি সমর্থকদের স্লোগান বলেই পরিচিত।

সূত্র বলছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও নির্বাচনে তারা বিএনপির হয়ে কাজ না করার ঘোষণা দেন। এতে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মতো রাজশাহীতেও পরাজয় নিয়ে শঙ্কায় পড়ে। এ কারণে পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনে মোসাদ্দেক হোসেন। তাছাড়া, পূর্বে থেকেই তারা লিটনের জনপ্রিয়তাকে মোকাবেলা করার অপকৌশল হিসেবে জঙ্গি হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পাবলিক সেন্টিমেন্টকে পক্ষে নেওয়ার অপচেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার নেতৃত্বে ছিলেন মিনু এবং বুলবুল। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্বে একাধিক মিটিং হয়েছিল বলেও মিটিংয়ে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করে। সঙ্গত কারণেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হয়ে ওঠায় তার সুনাম নষ্ট করতে এবং লিটনের জনপ্রিয়তা হ্রাস করতেই বিএনপি এমন পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এদিকে এ ঘটনায় পথসভায় উপস্থিত থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে।’ তবে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জন্ম মাটি ও মানুষ থেকে। বোমা, আগুন সন্ত্রাসের কাজ আওয়ামী লীগ করে না। এ ঘটনা কে বা কারা করেছে আমরা জানি না।

উল্লেখ্য, বিএনপি কর্তৃক বিগত সময়ে বিভিন্ন অগ্নিসন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহীর স্থানীয় জনগণ এই বিস্ফোরণের দায় বিএনপিকেই দিচ্ছে বলেও জানা গেছে।