লামা মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মাণাধিন রাজবাড়ি-মেরাখোলা সিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ এগিয়ে চলছে

lama-garder-brigde.jpg

মো.কামরুজ্জামান, লামা :
লামা শহরের কোল ঘেঁষে প্রাচীন জনপদ মেরাখোলা গ্রাম। শহরের পূর্ব উত্তরাংশে একটি পাহাড়ের পরেই মাতামুহুরী নদীর ওপারে গ্রামটি অবস্থিত। শহর থেকে কয়েক মিটার দূরত্বে এর অবস্থান হলেও নদী পার হয়ে যাতায়তের ফলে গ্রামটি মনে হয় মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন অনেক দূরের একটি দ্বীপ। লামা বাজার থেকে মিশন ঘাট কিংবা রাজবাড়ি পয়েন্টে বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের ভেলা, শুস্ক মৌসুমে হাটু বা কোমর পানি অথবা সমাজপতিদের উদ্যাগে বাঁশের নতুবা তক্তার সেতু দিয়ে অতিক্রম করে দীর্ঘকাল থেকে যাতায়ত করে আসছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। কয়েক বছর আগেও প্রায়ই কারো না কারো নদীর ¯্রােতে ভেসে যাওয়া কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনাযেত।
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থয়নে একটি নির্মাণাধিন সিসি গার্ডার ব্রিজ নদী পারাপারে স্থানীয়দের সেই কষ্ট আর পানির ¯্রােতে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ানক কাহিনী এখন কল্পনায় রুপ নিতে চলেছে কেবল। ইতোমধ্যে ১৪০ মিটার ব্রিজের ৪টি স্পাম, ১২টি গার্ডারের কাজ সমাপ্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রে জানাগেছে। ২০১৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি এই ব্রিজের নির্মাণ ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর সফল সমাপ্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। মেজবা কনাষ্ট্রকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ব্রিজটি নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হন।
স্থানীয়রা জানান, মাতামুহুরী নদী পয়েন্টে মেরাখোলা-রাজবাড়ি ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে মেরাখোলা-ছোটবমুসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পাহাড়ী গ্রাম সহজেই সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে। এর ফলে দূর্গম গ্রামে উদপাদিত কৃষি পন্য বাজারজাত করণসহ বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রীদের যাতায়তে উম্মোচিত হবে এক নতুন দিগন্ত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, দীর্ঘ চার দশক ধরে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জনগোষ্ঠির নানামুখি উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে লামা মাতামুহুরী নদীর রাজবাড়ি-মেরাখোলা পয়েন্টে ১৪০ মিটার সিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এ ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে লামা সদর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি দুর্গম পাহাড়ী গ্রামে বাসকরা শত পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যপক উন্নয়ন হবে। এলাকার শত শত কৃষি ও জুমিয়া পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করাসহ যাতায়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি উপজেলা সদরে উচ্চ শিক্ষা নিতে আসা ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগ লাগব হবে ।
স্থানীয়রা জানায়, এই ব্রিজের আশায় আমরা দীর্ঘ কাল পার করেছি। এপার ওপারে বসবাসকারী এলাকার পরিবারগুলো খাল পারাপারে বাঁেশর ভেলা বা নৌকার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। বর্ষায় কতজন নৌকাডুবির শিকার হয়ে কিংবা সাতার কেটে পার হতে সলিল সমাধি হয়েছে; তার হিসাব মিলানো মুশকিল। এই ব্রিজটি ছিল আমাদের স্বপ্ন। আমাদের স্বপ্ন পূরণ করে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর দূর্গমের মানুষের হ্নদয়ের মনিকোঠা দখল করেছেন। এই একটি ব্রিজ আমাদের এলাকার চেহারা পাল্টে দিতে চলেছে। এ ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ায় উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে এলাকার শত শত কৃষক পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যেমন আধুনিক সুবিধা পাবে; একইভাবে, কৃষিজাত পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করতে সহজতর হবে।
স্থানীয়রা জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগনের নিভির পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্রিজের প্রতিটি নির্মাণ পক্রিয়া সতর্কতার সাথে এগিয়ে চলছে।
এ বিষয়ে উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং মহদোয় ও উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নির্দেশনা মতে একদল দক্ষ প্রকৌশলী এ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছেন। এছাড়া আমি নিজেও সার্বিকভাবে নিভিড় মনিটরিং করে চলছি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, তার মধ্যে এই লামা-রাজবাড়ি সিসি গার্ডার ব্রিজটি নির্মানের মেয়াদ জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। এলাকার জনগণের কষ্টের কথা ভেবে পার্বত্য প্রতি মন্ত্রীর অঙ্গিকার অনুযায়ী-২০১৮ সালেই ব্রিজটি উদ্বোধন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।