সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাটে ৩০ লাখ ইয়াবার চালান খালাস নিয়ে তুলকালাম, জনপ্রতিনিধি সহ দুইজন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতে অপহৃত

images-yaba-teknaf-today.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি |
টেকনাফের সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাটে ৩০ লাখ ইয়াবার চালান খালাস নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজিবিকে সহযোগীতার অভিযোগে সাবরাং এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ দুইজনকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মারধর ও ব্যাংক চেক এ সই নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অপহৃত জনপ্রতিনিধি হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসাইন দানু ও জয়নাল আবেদিন।

অপহৃত মেম্বার দানু টেকনাফ টুডে ডটকমকে মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার(২ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী ফজল আহমদের পুত্র একরামের নেতৃত্বে তাদের দুইজনকে অপহরণ করে মৌলভী পাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। পরে শারিরীক নির্যাতন ও দুইটি খালি চেক এ সই নিয়ে সন্ধার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় অভিযোগ প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত একরাম দাবী করেছেন ইউপি সদস্যকে তারা অপহরণ ও মারধর করেননি। ইউপি সদস্য দানুর কাছ থেকে
প্রায় ৬০ লাখ টাকার মতো পাওনা থাকায় মৌলভী পাড়া এলাকায় ডেকে নিয়ে দুইটি চেক নিয়েছেন যাতে টাকা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করতে না পারেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দীন খান জানান, অপহরণের বিষয়ে কেও থানায় অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এছাড়া ইয়াবার চালান লুটপাটে জড়িতদের বিষয়ে খোঁজখবর পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কণেল এস এম আরিফুল ইসলাম শুক্রবার সকালে এক ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছেন, বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে ৩ লাখ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

টেকনাফ টুডে’র অনুসন্ধানে যা জানা যায় : বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে টেকনাফের সাবরাং পশ্চিম সৈকতের মুন্ডার ডেইল ঘাট সংলগ্ন সৈকত এলাকা দিয়ে ৩০ লাখ ইয়াবার চালান খালাস করে কুলে নিয়ে আসে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এসময় বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালালে পাচারকারীরা ইয়াবার বিরাট এ চালানটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ৩ লাখ ইয়াবা পরিত্যক্ত উদ্ধার করে। এ সুযোগে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ইয়াবার চালান লুটপাতে মেতে উঠে। ৩০ লাখ ইয়াবার মধ্যে বিজিবি ৩ লাখ উদ্ধার করলেও বাকি ইয়াবা স্থানীয় চক্রটি লুটপাত করেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে এসময় পথে পথে বস্তা বস্তা ইয়াবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে।

এদিকে ইয়াবার চালান আটক ও লুটপাতের খবর পেয়ে এই ইয়াবার মালিক টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকার ফজল আহমদের পুত্র একরাম তার বাহিনী নিয়ে সাবরাং মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া, কুরাবুইজ্জা পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালান উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা এই ঘটনার পেছনে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি মোয়াজ্হেম হোসেন দানুর হাত রয়েছে মনে করে তাকে সহ দুইজনকে কৌশলে মৌলভী পাড়া এলাকায় এনে আটকে রাখে। পরে নির্যাতন চালিয়ে অস্ত্রের মুখে খালি চেক এ সই নিয়ে সন্ধার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়।