টেকনাফ পৌর এলাকার ২টি পাড়া অপরাধের স্বর্গরাজ্য : বনভূমি দখলের রমরমা বাণিজ্য

1.jpg

নাইট্যংপাড়া ও পল্লানপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে হাকিম ডাকাতের আস্তানা

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
ভোট ব্যাংক নাম খ্যাত ও পরিচিত টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যংপাড়া। নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে এ দুইটি ওয়ার্ড আলোচিত ও সমালোচিত। বাংলাদেশী নাগরিকের তুলনায় রোহিঙ্গা ভাসমান জনসংখ্যা অনেকাংশে বেশী। পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যংপাড়া প্রশাসন ও পাহাড় সংলগ্ম এলাকা। টেকনাফ বনবিভাগের বনবীটের সংরক্ষিত বনভূমি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আবাস ভূমিতে পরিনত হয়েছে। পুরাতন ও নতুন রোহিঙ্গাদের একটি মিলনমেলায় পরিনত এবং এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। বিশাল বনভূমি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। বনবিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি এখন প্রায় হাতছাড়া। ফকিরা ও নুর আহমদ মোরা বা পাহাড় নামে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছাড়াও গহীন অরণ্যে ও রোহিঙ্গাদের বসবাস ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন ও বন শাসন কর্তৃপক্ষের নাকের ডগার উপর এ ২টি ওয়ার্ড সংলগ্ন বির্স্তীন্ন বনভূমি ভাসমান রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রন এবং দখলে চলে গেলেও এটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ঠদের উদ্দ্যোগ নেই। বন আইন প্রয়োগ না থাকায় এখানে চলছে বৃক্ষনীধন, পাহাড় কাটা, বনভূমি বাণিজ্য, পাহাড় দখল, ও ভূমিদস্যুদের রামরাজত্ব। পরিদর্শনে দেখা যায়, সংরক্ষিতে বনাঞ্চলের ভিতর বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, বিদ্যুৎসংযোগ, পাকা ভবন, ভাড়াবাসা, প্লট বিক্রি ও রাস্তা প্রশস্থকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে, মহাধুমদামে এবং পাশাপাশি নানা অপকর্ম ও অপরাধ প্রবনতা ও বাড়ছে। এ জনগুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ বান্ধব এবং পর্যটকদের আকর্ষণ এ পাহাড়টি গুরুত্ব ও ঐতিহ্ন্য হারাতে বসেছে। পাহাড়ে বন্যপ্রার্ণী প্রায় বিলুপ্তের পথে এবং মানবজাতির দখলে এ বনাঞ্চলটি। পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যংপাড়া বনাঞ্চলের পাদদেশে হওয়ায় এটি এখন ব্যক্তি মালিকানাধীনের ন্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বনভূমিটি রোহিঙ্গাদের নানা অপবাধের স্বর্ণরাজ্য হলে এখানে আইন শৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান অভিযান নেই। ফলে এখানে চুরি, ডাকাতী, অপহরণ, ইয়াবা সেবন/মাদক, ব্যবসা, সেবন, মুক্তিপণ বাণিজ্য, হত্যা, গুম, মোবাইল ফোন বাণিজ্যসহ, বিভিন্ন যৌন বাণিজ্যের মহোৎসবের ন্যায় চলছে। সচেতন মহলের মতে এ ২টি ওয়ার্ডের বনাঞ্চলটি রোহিঙ্গা পল্লীতে পরিনত হতে যাচ্ছে। এ ভয়াবহ দৃশ্যটি প্রশাসনের চোখের সামনে হলেও এর বিরুদ্ধে কোন অভিযান নেই। ফলে এলাকায় বসবাসকারীরা আতংক এবং ভীতির মধ্যে বসবাস করে আসছে। অপহরণ, মুক্তিপণ, খুন ও গুমের ভয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে বাইরে ভাড়া বাসা নিয়ে অবস্থান করছে।
অপর দিকে অচেনা অজেনা লোকের অবাধ বিচরণ সম্প্রতি বৃর্দ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে মিয়ানমারে রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে নির্বিচার রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন জাতীগত নিধন সহিংস ঘঠনার পর থেকেই অজেনা অচেনা লোকের সমাগম ঘটে এ দুইটি পাড়ায়। খোজ নিয়ে জানা যায়, অনুপ্রবেশকারী ইয়াবা ও রোহিঙ্গাদের এখন ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা এবং নানা অপর্কের স্বার্থে স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ওদের আশ্রয় ও পশ্রয় দয়ে আসছে। এ দুইটি আলোচিত পাড়া পাহাড় সংলগ্ম বিধায় এখানে রোহিঙ্গা ভাসমান লোকদের নিরাপদ স্থান হিসাবে মনে করেন ওরা। সে কারণে ওদের বিচরণ আশংখাজনক হারে ক্রমান্নয়ে বৃর্দ্ধি পেয়ে আসছে। এ নিয়ে শংকিত রয়েছেন এ দুই পাড়ার স্থায়ী অধিবাসীরা। অজেনা অচেনা লোকের পদভার সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। ওরা এখানে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে এলাকায় ইয়াবা, মাদক, অপহরণ, চুরি, বিভিন্ন অসমাজিক কার্যকলাপ বৃর্দ্ধি পেয়ে আসছে। যাহা নিয়ে অনেকেই উদ্বোগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে এবং স্বাভাবিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি ঘঠেছে।