টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পয়োবর্জ্যে পরিবেশ দুষিত, দুর্গন্ধে পালাচ্ছে ইটভাটার শ্রমিকরা

Copy-of-Teknaf-picn.c_1_02.02.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ |
টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পয়োবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকায়। এতে দুষিত হয়ে পড়ছে এলাকার পরিবেশ। পয়োবর্জ্যের দুর্গন্ধ-দুষনে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকাবাসী ও একটি ইটভাটার শ্রমিকরা। ইটভাটার শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে অন্যত্র।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকালে সরেজমিন পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ও ই ব্লক দুটি নয়াপাড়া গ্রামের পশ্চিমাংশ ও ইবিসি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ক্যাম্পের দুটি ব্লকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে থাকে। এই দুটি ব্লকে রয়েছে কয়েকশ পায়খানা। এইসব পায়খানার পয়োবর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় সেগুলি ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকা গুলিতে।

পার্শ্ববর্তী ইবিসি ইটভাটার ম্যানেজার কবির আহমদ জানান, নয়াপাড়া ক্যাম্পটিতে আর্ন্তজাতিক সংস্থা ও সরকারী ভাবে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা হলেও ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ গাফিলতি করে পরিবেশ দুষন করে যাচ্ছে। ফলে ক্যাম্পের এই দুটি ব্লকের পয়োবর্জ্য গ্রামের জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ও দুষন ছড়িয়ে পড়ছে। এব্যাপারে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।

ইটভাটার শ্রমিক মাঝি সিরাজ ও বসু মিয়া জানান, ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেকে এই পরিবেশে কাজ করতে না পেরে অন্যত্র চলে গেছে। ইটভাটাটিতে দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

পশ্চিম নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, খোলা জায়গায় বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় শিশুরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে বেশী। আবার দুর্গন্ধে সারাক্ষন নাকে হাত চাপা দিয়ে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, পয়োবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। বিষয়টি দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা এর সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, পয়োবর্জ্য যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।