নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের ওপারে দেখা যাচ্ছে আগুণের শিখা, শোনা যাচ্ছে গুলির আওয়াজ

main-mianmar_57535_1505024731.jpg

জান্তা সেনাবাহিনীকে ঘটনা দায় করছে রোহিঙ্গারা

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের সিমান্তের ওপারের ঢেকোবনিয়াতে আবারও রোহিঙ্গাদের ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে এবং ১ ফেব্রোয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে।
এছাড়া ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের নোমেন্স ল্যান্ডের ঠিক ওপারে গত দু’দিন ধরে থেমে থেমে ফাঁকা গুলি বর্ষণের আওয়াজও শুনা যাচ্ছিল বলে সিমান্তের স্থানীয়রা জানান। এতে করে তুমব্রু সীমান্তের নোমেন্স ল্যন্ডের বসবাসরত প্রায় ৫/৬ হাজারের অধিক রোহিঙ্গারা ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। আর ওপারের সীমান্ত এলাকার লোকজনও আতংকিত হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান এপারের চলে আসা রোহিঙ্গারা। এপারের সীমান্তের স্থানিয়রা জানান,গত দু,দিন ধরে থেমে থেমে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দূর থেকে আগুণের শিখা আর কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল তাও থেমে থেমে। এসব ঘটনার পর পর বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি পাহারা বাড়ানো দৃশ্যটিও সবার নজরে পড়ে। ওপারে আগুণ ও গুলি বর্ষন হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ।
ভয়ে পলিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, গত বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারের ফকিরা বাজার, তুমব্রু সীমান্তের ওপারে ঢেকুবনিয়া এলাকায় আবারও নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনা মায়ানমারের জান্তা সেনাবাহিনী ঘটাচ্ছে বলে দাবী করছেন চলে আসা রোহিঙ্গারা। তবে ওপার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রশাসনের ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মংডুর ফকিরা বাজার ও ঢেকোবুনিয়া এলাকায় আবারও নতুন করে আগুন ও গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ওই দেশের জান্তা সেনা বাহিনীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ধারনা করছেন এই দুই জন প্রতিনিধি। তবে এ ঘটনায় ঘুমধুম সীমান্তে নতুন করে কোন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেনি বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ভোররাত থেকে রাখাইনে সীমান্তরক্ষী পুলিশের সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যদের সংঘাত শুরু হয়। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয় এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বাকিরা আনসার সদস্য ছিল।এই ঘটনার পর থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান নেয়। এদের মধ্যে সাপমারাঝিরি, বড়ছনখোলা এলাকা ও দোছড়ি থেকে সব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ঘুমধূম ইউনিয়নের তুমব্রু নোমেন্স ল্যান্ডের বসবাসরত প্রায় ৫/৬ হাজার রোহিঙ্গা এখনো রয়ে যায়। এসব রয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদেরকে কবে নাগাদ সরিয়ে নেয়া হবে তা এখনও জানাতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।
সংবাদ প্রেরকঃ