টেকনাফে নাফ নদীতে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে মাছ আহরন বন্ধ থাকায় জেলেদের মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

6-3.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী :নাফ নদী দিয়ে ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন দীর্ঘ ৫ মাস যাবৎ মাছ আহরণ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে নাফ নদীর উপকূলীয় এলাকার নিবন্ধিত ৭ হাজার ৮৮৩ জন মৎস্যজীবি জেলে পরিবার দুর্বীসহ জীবন যাপন করছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারে রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে সামরিক জান্তা কর্তৃক সন্ত্রাস দমনের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন ও নির্যাতন করলে দালালের মাধ্যমে দলে দলে রোহিঙ্গাও ইয়াবা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে প্রশাসন নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করে দেয়। ফলে ৫ মাস যাবৎ জেলে পরিবার দুর্বীসহ জীবন যাপন করে আসছে। টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় প্রায় আলোচনা হলেও এ পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। সম্প্রতি আইন শৃংখলা কমিটির সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আহমদ বলেন, নাফ নদীতে মুষ্ঠিমেয় ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং রোহিঙ্গাদের অপকর্মের কারণে হাজার হাজার মৎস্যজীবি জেলেদের নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করা অযৌক্তিক। যাহা বাস্তবতা নিরীখে মানা যাবেনা। গত ৩০ জানুয়ারী (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ পৌরসভা, নাইট্যংপাড়া, চৌধুরীপাড়া, উত্তর জালিয়া পাড়া, শত শত জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চত্তরে এক বিশাল মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে মৎস্যজীবি জেলেরা টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলার হাজী মুজিবুর রহমান, কাউন্সিলার মনিরুজ্জামান, কাউন্সিলার শাহ আলম মিয়া, কাউন্সিলার নাজমা আলম, মোঃ আলম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্মারকলিপিতে জেলেদের পক্ষে স্মাক্ষরিত মনির আলম, আব্দুর রহীম, মোঃ ইব্রাহীম, রুহুল আমিন ও আবুল হাশিম উল্লেখ করেন, দশ হাজার অধিক জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষার্থে নাফ নদীতে মাছ আহরণ করে আসছে। ০৫ মাস ধরে নাফ নদীতে মাছ আহরন বন্ধ থাকায় জেলে পরিবারের মানবেতর জীবন করছে। সুতরাং তাদের জীবন জীবিকা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহবান জানান।