রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

indonesian-president-20180128103630.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন আজ রোববার। দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে দু’দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকা এসেছেন তিনি। এ সফরের ফাঁকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অমানবিক রাষ্ট্রীয় আচরণ রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় ভিকটিম হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিতদের দেখতে দুপুরের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কোটবাজার ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানাতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশসহ (ডিআইজি) পদস্থ কর্মকর্তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে আসছেন ফার্স্ট লেডি ইরিয়ান জোকো উইদোদোসহ একাধিক মন্ত্রী। এ ছাড়া একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল তার সঙ্গে রয়েছে।
জোকো উইদোদো রোববার কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর দিকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের বেশ সুসম্পর্ক। ইন্দোনেশিয়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানে মিয়ানমারকে সদস্য করেছিল। তাই রোহিঙ্গা সংকটকালে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পাওে এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রবল জনমত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদোর বাংলাদেশ সফর আয়োজনের প্রথমদিকে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরে জনমতের চাপের কথা বিবেচনা করে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাকার্তা তার প্রথমদিকের অবস্থানে খানিকটা পরিবর্তন করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার বিষয়ক তৃতীয় কমিটির ভোটেও ইন্দোনেশিয়া রোহিঙ্গাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে কোনো রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালের পর বাংলাদেশ সফর করেননি। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময়ে বিভিন্ন উপলক্ষে একধিকবার ইন্দোনেশিয়া সফর করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গা সংকট অধিক গুরুত্ব লাভ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকায় পৌঁছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
আজই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয় প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বার্ষিক বাণিজ্য হয়ে থাকে। বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অনুকূলে রয়েছে। নতুন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস’ (এলএনজি) আমদানির একটি চুক্তি প্রেসিডেন্ট উইদোদোর সফরকালে সই হতে পারে। নতুন করে এলএনজি আমদানি চুক্তি হলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে।
এ ছাড়া সফরকালে দু’দেশের মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দফতরের মধ্যে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) বৈঠক অনুষ্ঠান সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট সূত্র।