চকরিয়ায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মাদরাসা ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ

child_marriage_pic_40733_1488201356.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার রাতে কণের বাড়িতে আবারও হাজির হয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ আরাফাত। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন ও থানা পুলিশের একদিল। ওইসময় কণের বাড়িতে সবাই ব্যস্ত ছিলেন মেহেদী মঞ্চ সাজানোর কাজে। অপরদিকে একটু পরে মেহেদী রজনীতে পরিবার সদস্যদের সাথে মঞ্চে উঠতে ওইসময় কণে সাজতে গিয়েছিলেন বিউটি পার্লারে। কিন্তু হবু নববধু নবম শ্রেণীতে পড়–য়া মাদরাসা ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে বাড়িতে ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত হয়েছে জেনে পরিবারের সদস্যরা থমকে যান। পাড়া-প্রতিবেশিরা কৌশলে অনুষ্ঠানস্থল থেকে লাপাত্তা হয়ে পড়েন। ততক্ষনে কণেও বাড়িতে পৌঁেছ। সব আয়োজন প্রস্তত থাকলেও সর্বশেষে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে বন্ধ হয়ে যায় বাল্যবিয়ের যত অনুষ্ঠানমালা। জানতে চাইলে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, স্থানীয় মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী জন্নাতুল কোবরা। দরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রীর বয়স বর্তমানে মাত্র ১৫বছর। এখনো লেখাপড়া করছে এ ছাত্রী। তবে কিছুদিন আগে হঠাৎ বিদেশ থেকে ফেরা প্রবাসী পাত্র পেয়ে মা-বাবা ওই ছাত্রীকে তড়িগড়ি করে বিয়ে দিতে রাজি হন। কথা মতো বৃহস্পতিবার কণের বাড়িতে আয়োজন করা হয় মেহেদী রজনী ও পরদিন (গতকাল শুক্রবার) ছিল ওই ছাত্রীর বিয়ের অনুষ্টান।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে মাদরাসার নবম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে দেয়া হচ্ছে এই ধরণের খবর পান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। তিনি রাত ৯টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ আরাফাতকে পুলিশ ফোর্স সহকারে ওই ছাত্রীর বাড়িতে পাঠান। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ আরাফাত রাত দশটার দিকে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেনকে ডেনে নেন। পরে তিনি পাত্রীর বয়স নির্ধারণ করতে ছাত্রীর বাবা দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চান। তিনি একটি নকল জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করেন। তাতে ছাত্রীর বয়স দেখানো হয় ১৯ বছর। ওই সনদ সন্দেহ হলে জাতীয় পরিচয় পত্র চেয়েও পাননি। রাত সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বালাম বহি ও মাদরাসায় জমা দেয়া জন্ম সনদ ঘটনাস্থলে আনেন সহকারি কমিশনার। ওইসময় তাতে দেখেন ছাত্রীর বয়স নির্ধারণ রয়েছে মাত্র ১৫ বছর। ইউনিয়ন পরিষদ ও মাদরাসার জন্মসনদ দেখে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নির্ধারণ হওয়ার পর ছাত্রীর অভিভাবককে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে ছাত্রীর বাবা দেলোয়ার হোসেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে অঙ্গিকার করেন ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেনা। এরপর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত ওই ছাত্রীসহ অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বাল্যবিয়ে যাতে না হয় সেজন্য মনিটরিং ও নজরদারীতে রাখতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মক্কি ইকবালকে নির্দেশ দেন।