ফেরত যেতে অনিচ্ছুক রোহিংগারা সাধারন মানুষের মাঝে মিশে যাচ্ছে

Balokhali-Rohingha-camp-1.jpg

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ফেরত চুক্তি সই নিয়ে অসাধু রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। কারন তারা মানবিক বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে চায়না। আবার এক শ্রেনীর অসাধু রোহিঙ্গা চক্র অত্র এলাকায় মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে।
তার পাশাপাশি শত শত রোহিঙ্গা পরিবার মিশে আছে সাধরন মানুষের মাঝে। এই সমস্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে পুরাতন রোহিঙ্গারা।
তাও আবার টাকার বিনিময়ে।
সুত্রে জানা যায় টেকনাফ উপজেলার এক শ্রেনীর অসাধু প্রভাবশালী চক্র অসহায় রোহিঙ্গা জিম্মি ও বিভিন্ন অপরাধ মুলক কাজে ব্যাবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর যারা টাকা দিতে পারছে না সেই সমস্ত রোহিঙ্গারা বসবাস করছে নানা আতংকে। এই উপজেলার শ্রম বাজারও রোহিঙ্গাদের দখলে।
এদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার জন্য একটি চুক্তি সই হয়েছে। প্রতিদিন ৩ শত রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে টেকনাফ উপজেলায় বসবাসরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানায় ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা অনেক রোহিঙ্গা নেতা।
তারা জানায়, ‘মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, বসতভিটা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
এখন যদি আমরা ফেরত যাই আমাদের ক্ষতি ছাড়া কোন উপকার হবে না।
অন্য দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা না হলে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না।
গত ৫ মাসে মিয়ানমার সরকারে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কয়েকদিন আগেই দুই দেশর মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম দেখা এখনে চোঁখে পড়েনি।
টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন দু’দেশের মধ্যে চুক্তির খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তাদের অধিকার ফেরত না পেলে এবং বসবাসের মতো পরিবেশ সৃষ্টি না হলে তারা কিভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাবে।
তারা আরো বলেন মিয়ানমারের রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার মতো কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
উল্লেখ্য-গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, শুরুতেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে আশ্রয় নেয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা। আগমনের ঢল বেড়ে যাওয়ায় কারনে তৈরী করা হয় নতুন নতুন রোহিঙ্গা বস্তি বলতে গেলে এই উপজেলা এখন রোহিঙ্গা নগরী হিসাবে পরিচিত।
জরিনা বেগম নামে বয়স্ক একজন রোহিঙ্গা নারী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,দীর্ঘ দুই বছর আগে পুরানো নির্যাতনের কথা ভুলে গিয়ে নিজের ভিটেমাটির কথা চিন্তা করে নিজ দেশর ফেরত গিয়েও স্বাধীন ভাবে থাকতে পারেননি।
আমি মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই না। কারণ আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। সে জন্য আমি আমার পরিবারের সদস্যসহ এবার নিয়ে মোট তিন বারের মতো বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছি।
এখন আমাদের নাগরিকত্ব ও থাকার জায়গার নিরাপত্তাসহ সকল অধিকারগুলো না পেলে সেখানে ফিরে গিয়ে আমাদের কোন লাভ হবে না। আমাদের যে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা বলছে, তালিকাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা বলছে। মিয়ানমারে আমাদের নিয়ে গিয়ে কিভাবে রাখবে, কি মর্যাদা দেবে সে বিষয়ে কিছুই আমরা এখনো জানতে পারিনি। আমার মত হাজার হাজার রোহিঙ্গারা কিভাবে সেখানে যাবে সে বিষয় নিয়ে তারা খুব চিন্তায় আছে।
গোপন সংবাদে খবর নিয়ে জানা যায় ক্যাম্প এবং বস্তিতে বসবাসরত এক শ্রেনীর রোহিঙ্গা কুচক্রিমহল তাদের নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য মিয়ানমারে ফেতর না যাওয়ার জন্য তাদের ফুসিঁয়ে তুলছে।
তাদের আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিভিন্ন সংস্থার এনজিও কর্মকর্তারা।
অন্য দিকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা সহ অন্যান্য বিষয়গুলোতে মিয়ানমার ব্যবস্থা নেবে সেই আশ্বাস প্রধান করায় বাংলাদেশ সরকার সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে।#