রোহিঙ্গা বস্তি ও ক্যাম্প গুলোর কোন নিয়ন্ত্রন নেই, বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রোহিঙ্গারা

kotopalong-Rohingha-camp.jpg

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :
টেকনাফ নতুন ভাবে গড়ে উঠা এবং বিগত কয়েক বছর আগে গড়ে উঠা নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প গুলো অরক্ষিত এবং নিয়ন্ত্রনহীন। এদিকে বিগত কয়েক বছর আগে গড়ে উঠা নিবন্ধিত হ্নীলা মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পটির নিয়ম কানুন মেনে চলার জন্য প্রবেশ পথে রয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী। অথচ তাদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা অবাধ বিচরনসহ নানা অপরাধে লিপ্ত রয়েছে।
অত্র ক্যাম্পের ভিতরে এমন কোন অপরাধ নেই যে অপরাধে তারা জড়িত নয়। ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধ লিপ্ত রয়েছে এক শ্রেনীর রোহিঙ্গা নর-নারী।
বিগত কয়েক মাস আগে এই ক্যাম্পে অসাধু রোহিঙ্গাদের অপকর্মে বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তারপরও উক্ত ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের শৃংখলা মেনে চলার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রসাশনিক কর্মকর্তারা।
কিন্তু এত পরিশ্রমের মধ্যে নিয়ম কানুণ না মেনে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে অসাধু অর্থলোভী রোহিঙ্গা চক্রের সদস্যরা।
তাদের অবাধ বিচরনের ফলে অত্র এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে নানান প্রকার সমস্যা।
তার পাশাপাশি নতুন ভাবে গড়ে উঠা শরনার্থী ক্যাম্প গুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ।
ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেই কোন নিয়ন্ত্রন,নেই কোন শৃংখলা।
যার যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা,সেখানেই চলে যাচ্ছে।
এতে প্রতিনিয়ত অত্র ক্যাম্প এলাকার চারিপাশে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রকার অপরাধ।
আবার এই সমস্ত অর্থলোভী রোহিঙ্গারা মাদক পাচারের সাথে জড়িত হওয়ায় অত্র এলাকায় বেড়ে গেছে মাদক পাচারকারীর সংখ্যা।
এতে মাদক পাচার প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
সুত্রে জানা যায়, নব-নির্মিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোর নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
আবার তাদের ইশারায় দিনের পর দিন দখল হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক দৃর্শ্যেঘেরা বনবিভাগের জমিন গুলো।
প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের নতুন নতুন বসতি স্থাপন হচ্ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই অসাধু চক্র।
এদিকে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি,ও পুলিশ সদস্যদের রয়েছে কড়া নজরদারী। এত কিছুর পরও
নানান কৌশলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাহিরে এসে বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করছে।
অপরদিকে ২০০৬ সাল থেকে ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটি (সিএমসি) ও ব্লক ম্যানেজমেন্ট চেয়ারম্যান (বিএমসি) করা হয়েছে। এক বছর মেয়াদী এই কমিটি নির্বাচন করা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছে অনেক দলাদলি।
শরণার্থী ক্যাম্প গুলো ঘুরে আরো দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যাবহার হয় না। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সমস্যা নিয়ে প্রকল্প হাতে নিলেও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে নিরব। এমন কোনো পরিবার নেই যে পরিবারে ৫-৬ জনের কম সন্তান নেই। রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে মোবাইল ফোনও চোঁখে পড়ার মত। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এদেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ওপারেও কাজ করছে সমানতালে।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার (ওসি) মাঈন উদ্দিন খাঁন বলেন ক্যাম্প গুলোতে দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা যদি সঠিক ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলে রোহিঙ্গা অবাধ বিচরন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন গত কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের আগমনের মধ্যে আমাদের পুলিশ সদস্যরা যে কঠোর ভুমিকা পালন করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল রেখেছে তা আপনাদের সবার জানা আছে। তারপর যে সমস্ত অসাধু রোহিঙ্গারা অত্র এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করবে তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য দলবত নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগীতা করতে হবে।
তানা হলে রোহিঙ্গারা সাধারণ মানুষের মিশে গিয়ে নানা প্রকার অপরাধ সৃষ্টি করবে।