টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার হালচাল-(৬)-টেকনাফের কাটাবনিয়া এখন ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্ট পরিণত : শীর্ষ মানবপাচারকারীরা ফের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত

Teknaf-pic-12.01.18.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সমূদ্র উপকূলবর্তী আলোচিত কাটাবনিয়া ও খুরের মূখ ভয়ঙ্কর ১ জনপদের নাম। এটি শাহপরীরদদ্বীপের উত্তরে এর অবস্থান। এ দুইটি আলোচিত জনপদের নাম শুনলে শরীরের লুম শিহরে উঠে। এ জনপদ থেকে অতীতে হাজার হাজার আদম/মানব সাগর পথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ফাঁড়ি জমিয়েছিল। যার নাম হয়েছিল মানব পাচারের এ্যারপোর্ট। মানবপাচারকারী শীর্ষ দালালের প্রলৌবনে পড়ে অসংখ্য বনি আদম মালয়েশিয়ায় ফাঁড়ি জমালেও অনেকের খোঁজ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কি? বেঁচে আছে না জীবিত আছে, তাদের পিতা-মাতা ও আতœীয়স্বজন এ নিয়ে গভীর উৎকন্ঠার মধ্যে ভোগছেন। তাদের খোজে এবং ফেরৎ পেতে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী দপ্তরে প্রায় ৬ হাজার আবেদনপত্র পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ দুইটি জনপদে অতীতে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করে কাটি কাটি টাকা কামিয়ে বিলাশবহুল পাকাভবন, গাড়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জায়গা জমিনের মালিক বনে গেলেও মানব পাচারকারীর খপপরে পড়া অসংখ্য নিখোঁজ বনি আদম ও মানব এলাকায় নীরব কান্না এখনো চলছে। এ কান্নার প্রতিশোধ নেবে কে? এমন প্রশ্ন এসব এলাকায়। জগন্যতম মানব পাচার অপরাধের সাথে শীর্ষ মানবপাচারকারী দালালেরা পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলেও ওদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। এ জনপদে মানব পাচার কাজ বন্ধ হলেও এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ফের ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। সাবরাং হারিয়াখালী, নয়াপাড়া, আলীরডেইল, চান্দলী পাড়া, মুন্ডার ডেইল, কাটাবনিয়া, খুরের মূখ এলাকার শীর্ষ তালিকাভূক্ত মানব পাচারকারীরা এখন ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। কাটাবনিয়া এবং শাহপরীরদ্বীপের উত্তরে মধ্যবর্তী ফাঁকা জনমানবশূণ্য প্যারাবন দিয়ে প্রতিনিয়তই ট্রলারবর্তী বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান ঢুকছে। এ চোরাইপয়েন্ট দিয়ে ১৬ জানুয়ারী টেকনাফ কোষ্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে ১লাখ ৪০ হাজার ইয়াবার চালান খালাসের খবর পেয়ে কোষ্টগার্ড বাহিনী কাটাবনিয়া সাগর উপকূলে অভিযানে নামলে এখবর ইয়াবা ব্যবসায়ীরা জেনে নেয়। ফলে বিশাল ইয়াবার বহর এখন গভীর সাগরে ভাসছে। এ বিশাল ইয়াবার চালান জব্দ করতে বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা আলোচিত কাটাবনিয়া ও খুরের মূখ এলাকায় নজরদারী বৃর্দ্ধি করেছে। স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেইজ করেই মানবপাচারকারী বনাম ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কাটাবনিয়া ও খুরের মূখকে ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এবং টেকনাফের সীমান্তবর্তী সাবরাং এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীর সমন্নয়ে সাগর পথে ট্রলার যোগে বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান এ জনপদে নিয়ে আসছে। দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ের সাগর উপকূলীর এলাকার ছদ্মবেশী জেলেদের হাতবদল হয়ে এসব ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। মানবপাচার এবং ইয়াবা মাদক রোধের জন্য খুরের মূখ এলাকায় অস্থায়ী বিজিবি ক্যাম্প থাকলেও ওদের নাকের ডগার উপর দিয়ে ইয়াবা চালান সংশ্লিষ্টদের হাতে বারংবার জব্দ হলেও এর সাথে জড়িতরা কিন্তু রহস্যজনক কারণে ধরা পড়ছেনা। তথ্যভিত্তিক জড়িতদের বিরুদ্ধে সংবাদ আসছে। অপেক্ষা করুণ। তথ্য দিতে ০১৮১৮০৮৭৩০৪ নাম্বারে সহযোগিতা করুণ। নাম গোপন করা হবে। চলবেই..