টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার হালচাল- (৫)-দেশের দক্ষিণ সীমান্তের সাগর পথে ইয়াবা পাচার থামেনী

Copy-of-yaba-coast-3-lac-e1545996956302.jpg

ফাইল ছবি

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : জেলার উখিয়া-টেকনাফ এ দুই সীমান্ত উপজেলায় মিয়ানমারের নির্যাতিত দশলাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং প্রশাসন এ নিয়ে ব্যস্ততা ও স্থল পথে বিভিন্ন সংস্থার কড়াকড়ী আরোপের প্রেক্ষিতে সাগর পথে মরণ ব্যাধী ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। যাহা অতীতের সকল রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। অতীতে লাখ লাখ ইয়াবা জব্দ হলেও বর্তমানে বস্তা বস্তা ইয়াবা জব্দ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সীমান্ত রক্ষীর ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য সিজারলিষ্ট এবং প্রদত্ত প্রেসরিলিজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ মামলা মালিক বিহীন। যার কারণে ইয়াবা পাচার থামানো যাচ্ছেনা। সীমান্তের সচেতন ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, ইয়াবার সংশ্লিষ্ট শুধু ব্যবসায়ী ও পাচারকারী জড়িত নন সেই সাথে প্রশাসনের কিছু লোকও এর জড়িত রয়েছে। ফলে ইয়াবা পাচার এখন অপ্রতিরুদ্ধ। টেকনাফ সীমান্ত এলাকা হচ্ছে, ইয়াবা পাচারের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। সাগর পথ হচ্ছে, ইয়াবা পাচারের নিরাপদ স্থান। দুদেশের জলসীমানার মধ্যে বস্তা বস্তা ইয়াবা হাতবদল হয়ে ফিসিংট্রলার যোগে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমার দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অত্যাধুনিক স্ববংক্রিয় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এর নিয়ন্ত্রন করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাগর উপকূল ও গভীর সাগর দিয়ে ইয়াবার চালান মধ্যে মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে জব্দ হলেও বড় ধরনের ইয়াবার চালান সহজেই পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদশীর মতে সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ইয়াবার বড় ধরনের চালান জব্দ হলেও মামলায় দেখানো হয় চারভাগের একভাগ। এনিয়ে সীমান্ত এলাকায় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র মতে টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা সাবরাং টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া এ ৩ ইউনিয়নের সমূদ্র উপকূলবর্তী সৎস্যঘাট দিয়ে বেশীরভাগ ইয়াবা এসে মওজুদ হয়। দুদেশের জেলেদের হাতবদল হয়ে মৎস্যের আড়ালে চলে আসে ইয়াবার চালান। এ ৩ ইউনিয়নের সমূদ্র উপকূলের মৎস্য আহরনকারী যে কয়টি ঘাট রয়েছে। তার মধ্যে সাবরাং এর কাটাবনিয়া, খুরের মূখ, মুন্ডার ডেইল, টেকনাফ সদরের মহেশখালীয়া পাড়া ছৈয়দ আহমদের ঘাট, তুলাতলী গুরাপুতুর ঘাট, হাবিরছড়া ঘাট, বাহারছড়া ঘাট, লেংগুরবিল ঘাট ও বাহারছড়ার শামলাপুর ঘাট। এসব মৎস্য ঘাট দিয়ে ইয়াবা নামক সোনার হরিন আসার পর ৩ উপকূলীয় এলাকার দশ্যপঠ পাল্টে যাচ্ছে। এক সময় যার কুড়ে ঘরে থাকতো বর্তমানে তারা এখন আলিশান পাকাভবন ও গাড়ীর মালিক বনে গেছেন। যদিও তাদের দৃশ্যমান আয়ের উৎস্য না থাকলেও তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গত ১৬ তারিখ দিবাগত রাত্রে সাবরাং কাঁটাবনিয়া সাগর উপকূলে অভিযান চালিয়ে কোষ্টগার্ড বাহিনী ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ ২টি ট্রলার জব্দ করেছে। প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানায় জব্দকৃত ইয়াবার পরিমাণ বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে।