উখিয়ার কুতুপালং বাজারে রোহিঙ্গাদের অবৈধ সিম বাণিজ্য!

sim-cards_20073_1469376336.jpg

শ.ম.গফুর,উখিয়া : এপারে আস্রিত রোহিঙ্গারা এদেশের রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতির কিছুই তোয়াক্কা করছেনা। সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও দোকান খুলে বিক্রি করছে সিমকার্ড।জানা গেছে,
মিয়ানমারের সেনা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা প্রায় প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবার মোবাইল ফোন ও বাংলাদেশী অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে প্রথমেই তারা কিনে নিয়েছেন বাংলাদেশী মোবাইল অপারেটরের সিম। মূলতঃ যোগাযোগের তাগিদ থেকেই তারা এসব সিম কিনছেন এমনটা বলা হলেও স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের হাতে সিম যাওয়াকে হুমকি হিসেবেই দেখছেন। কুতুপালং বাজারে হাত বাড়ালেই আইডি কার্ড বিহীন মিলছে বিভিন্ন অপারেটরের অবৈধ সিম। সিমকে সাংকেতিক নাম লাল কার্ড হিসেবে বিক্রি করছে তারা। বাজার কেন্দ্রিক এসব সিমের নিয়ন্ত্রণ কুতুপালং এলাকার সুলতান আহমদ, লোহাগাড়ার মোহাম্মদ হেফাজ, কুতুপালং ক্যাম্পের শরণার্থী এমদাদ উল্লাহ,ইমাম হোসেন, কুতুপালং এলাকার এনায়েত উল্লাহ, মোহাম্মদ হাছানদের হাতে। তাদের মধ্যে রেজিস্টার্ড -আন রেজিস্টার্ড রোঙিঙ্গা এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় রয়েছে ১০-১২ জনের সিণ্ডিকেট। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের হাতে টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী সিম তুলে দিচ্ছে উক্ত সিন্ডিকেট। কুতুপালং বাজারে টেলিকমের একাধিক দোকানের আড়ালে রোহিঙ্গাদের বাড়ী -বাড়ী গিয়ে অবৈধভাবে সিম বিক্রি করছে। এতে কোন ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই এসব সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর নিবন্ধন না থাকায় এসব সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি কুতুপালং টিভি রিলে কেন্দ্রের পাশে ও কুতুপালং বাজারে অনেক রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা অকপটে বলেন সুলতান আহমদের নিকট হতে তারা লাল কার্ড (সিম) কিনেছেন। এ সময় সিম কিনতে দোকানে আসা রোহিঙ্গা ছখিনা খাতুন জানান, আগেও ৪শ টাকা দিয়ে সুলতান আহমদের নিকট থেকে একটি লাল কার্ড কিনে নিয়ে যায়। এখন আরো ২টি লাল কার্ড কিনতে এসেছেন। সিম বিক্রির ব্যাপারে সুলতান আহমদের নিকট জানতে চাইলে জানায়, সে কোন অবৈধ সিম বিক্রি করে না। তবে কিছুদিন পূর্বে কক্সবাজার থেকে একজনের আনা সিম বিক্রি করছে বলে স্বীকার করে। এ সময় সিম কিনতে আসা আলী আহমদ জানান, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের ফকিরা বাজার এলাকায় আমাদের বাড়ি। মা-বাবা ও ভাই বোন সহ মোট ১০ জন বাংলাদেশে এসেছি। এনায়েত উল্লাহর কাছ থেকে একটি লাল কার্ড দেড় হাজার টাকায় কিনেছি। এখন আরেকটি লাল কার্ড নেব। তিনি জানান, এখানে লাল কার্ড কিনতে কোন কাগজপত্র লাগে না। এছাড়া আরো অনেক জায়গায় বিক্রি হচ্ছে লাল কার্ড। সিম বিক্রির ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের সিম বিক্রি নিষিদ্ধ। যারা এসব অপতৎপরতার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।