টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার হালচাল- (৪)-সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিনত

Teknaf-pic-12.01.18.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : সেন্টমার্টিনদ্বীপ মূল ভূখন্ড থেকে একটি বিচ্ছিন্ন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের সর্বশেষ ভূখন্ড। এর উত্তরে শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণ পশ্চিমে বিস্তীর্ণ সাগর ও পূর্বে মিয়ানমার রাখাইন (আরাকান) রাজ্য। বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য যে, ক’টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে, তার মধ্যে সেন্টমার্টিনদ্বীপ অন্যতম। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যেমন নৌপথে ৭টি জাহাজ চালু রয়েছে। তেমনিভাবে ১১৫টি ছোট বড় অত্যাধুনিক হোটেল মোটেলও রয়েছে। পর্যটন মওসূমে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশী বিদেশী পর্যটন সমাগম ঘটে এ প্রবালদ্বীপে। পর্যটকদের আকৃষ্ঠ করতে এর অন্তরালে চলছে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। অনুসন্ধানী রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে সেন্টমার্টিনদ্বীপে ক্ষমতাসীন দলের একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। উক্ত সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে ফিসিং বোট যোগে ইয়াবার বড় ধরনের চালান সেন্টমার্টিনদ্বীপে মওজুদ করার পর পর্যটকদের আড়ালে সারা বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নামিদামি হোটেল মোটেলকেও ইয়াবা সরবারহ করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা হয়। ঐসব হোটেল মোটেলের ব্যবস্থাপকদের সাথেও রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সখ্যতা। এরি কারণে চাহিদা মেটাতে ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে, বানের স্রোতের ন্যায়। সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিনদ্বীপের সর্বদক্ষিন চীরাদ্বীয়া দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়া হচ্ছে, সাগর সংলগ্ম প্রত্যান্ত নীরব সীমান্ত এলাকা। এ ৩টি চোরাইপয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়তই মিয়ানমার থেকে সাগরের জিরো পয়েন্ট থেকে দুদেশের জেলেদের হাতবদল হয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবা ট্যাবলেট ডুকছে। এ নিয়ে পুরো দ্বীপে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর সাথে কারা জড়িত, দ্বীপের সচেতন মহল মূখ না খোললেও গোপনে ওদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিডিয়াদের হাতে এসেছে। ওরা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ইয়াবা মাদক ব্যবসায় নেমেছে। দ্বীপের প্রায় জেলেরা সাগরে মাছ শিকারের পরিবর্তে এখন ইয়াবা শিকারে মত্ত হয়ে উঠেছে। গত বছর দক্ষিণ পাড়া সাগর উপকূলে ইয়াবা একটি চালান আটক নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হয়েছিল। গত ১৬ জানুয়ারী স্থানীয় কোষ্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে সেন্টমার্টিনদ্বীপের পূর্ব পাড়ায় মিয়ানমার থেকে আসা নৌকা সহ ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করে।