টেকনাফে ৬ ইউনিয়নে দেড় কোটি টাকার কর্মসংস্থান প্রকল্প : গ্রামীণ অবকাঠামোর কাংখিত উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশংকা!

Teknaf-Pic-A-15-01-18.jpg

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ : টেকনাফে চলতি অর্থ বছরে ৬টি ইউনিয়নে ৬৫টি প্রকল্পে ২হাজার ৫৮জন শ্রমিকের বিপরীতে ১কোটি ৬৪ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার বিনিময়ে গৃহীত প্রকল্পের কাজ চুপিসারে শুরু করায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মেম্বার-চেয়ারম্যান অনিয়ম-দূর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থেকে লোক দেখানো কাজের বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ উঠছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,১নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নে ১৮টি প্রকল্পে ৫শ ৬০জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম চলছে। কাঞ্জরপাড়া মেইন রোড থেকে পূর্বদিকে হ্নীলা হ্যাচারী পর্যন্ত রাস্তা পুন:নির্মাণ, ঝিমংখালী বিজিবি সড়কের উভয় পাশে মাটি ভরাট, ঝিমংখালী দিলদারের বাড়ি হতে পূর্বদিকে মিনাবাজার জামালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন:নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। অনেক প্রকল্প কাগজে-কলমে থাকলেও শ্রমিকদের যথাযথ উপস্থিতি সন্তোষজনক না। এই বিষয়ে যুবলীগ নেতা গাফ্ফার ও শাহ আলম মেম্বার বলেন, আগামীতে জাতীয় নির্বাচন এবং এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই আমরা এই প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়ন করতে চাই। হ্নীলা ইউনিয়নে ১৪টি প্রকল্পে ৩শ ৮০জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩০লক্ষ ৪০হাজার টাকার বিনিময়ে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ চলছে। হ্নীলা বিজিবি ক্যাম্প হতে বাবুল মেম্বারের প্রজেক্ট পর্যন্ত ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সংস্কার, ফুলের ডেইল ছালেহ আহমদের বাড়ি হতে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত রাস্তা ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলতে দেখা যায়। প্রকল্প চেয়ারম্যান শামসুল আলম বাবুল মেম্বার নিজেই কাজ তদারকি করছে। লেদা পশ্চিম পাড়া মোঃ আলীর বাড়ি হতে গর্জন পাড়া ছালেহ আহমদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন: নির্মাণ কাজ নুরুল হুদা মেম্বার তদারকি করছে। তারা জানান,আমরা অশিক্ষিত মানুষ, সরকার যা দিয়েছে তাই দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করছি। অনেকে কাজ না করে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করেন। কিছু কিছু প্রকল্পে সামান্য কাজ হলেও শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১৪টি প্রকল্পে ৪শ ৭৮জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩৫লক্ষ ৪হাজার টাকার কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান মিয়ার নিকট কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় মতামত পাওয়া যায়নি। সাবরাং ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পে ৪শ ৩৬জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩৪লক্ষ ৮৮হাজার টাকার বিনিময়ে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এই ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন,আমি আন্তরিকতার সহিত উন্নয়নে বিশ্বাসী। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। সাংবাদিকদের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিদর্শনের আহবান জানাচ্ছি। বাহারছড়া ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্পে ১শ ৬৫জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৩ লক্ষ ২০হাজার টাকার বিনিময়ে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ চলছে। এই ব্যাপারে বাহারছড়া ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার হুমায়ূন কবির বলেন, উপকূলীয় ইউনিয়নে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ যথানিয়মে এগিয়ে চলছে বলে দাবী করেন। প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ১টি প্রকল্পে ৩৯জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
এই ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করেই সাইনবোর্ড বিহীন এসব প্রকল্পে আমলা এবং কতিপয় জনপ্রতিনিধি মিলেই এসব প্রকল্পে লুটপাট শুরু করেছে। এই ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মৌঃ রফিক উদ্দিন বলেন, এমপি সাহেব এসব প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতি না করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ অনিয়ম-দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে জড়িত থাকলে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার বলেন, আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছি। সুতরাং এই ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারছিনা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নোমান বলেন,আমরা গত ২ ডিসেম্বর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান-মেম্বারেরা কাজ করে কাগজপত্র ঠিক থাকলেই আমরা বিল পরিশোধ করি।
এদিকে বর্তমান সরকার বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই মহৎ প্রকল্পটি হাতে নেয়। কিন্তু লুটপাট প্রকল্প নামে পরিচিত এই কাজে কতিপয় বর্ণচোর জনপ্রতিনিধি প্রকৃত দরিদ্র-বেকার জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে স্বজন ও অনুসারীদের শ্রমিক সাজিয়ে কৌশলে প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সুতরাং সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এসব প্রকল্পে অনিয়ম, দূর্নীতিরোধ করে প্রকৃত অতিদরিদ্রদের দেওয়ার দাবী উঠেছে।