কিছুতেই থামছে না মাদকের আগ্রাসন :প্রবেশ করছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা, অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা

yaba_51672_1499663014.jpg

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :
পাশ্ববর্তীদেশ মিয়ানমারের উৎপাদিত ইয়াবার আগ্রাসন কিছুতেই থামছে না।
তথ্য-অনুসন্ধানে জানা যায়,সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন রাখাইন রাজ্য থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে প্রায় ৫০ লক্ষ ইয়াবা। বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি নগদ টাকা।
বর্তমানে সারাদেশের বেশীর ভাগ যুব ও তরুন সমাজ মরন নেশা ইয়াবার আগ্রাসনের শিকার। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইয়াবা আসক্তদের সংখ্যা।
এদিকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক প্রতিরোধে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যসহ বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
কিন্তু প্রসাশনের সদস্যদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা পাচার অব্যাহত আছে।
কিছুতেই থামছে না মাদকের আগ্রাসন।
অপরদিকে বছরের পর বছর ধরে মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে বাংলাদেশের যুব সমাজ হয়ে যাচ্ছে ধ্বংস। বিশেষ করে ইয়াবা সেবনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক আসছে মিয়ানমার থেকে।
ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ করতে টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ ধরাও নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অথচ নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে প্রায় ৪ মাস গত হয়েছে। তার পাশাপাশি মাছ শিকার করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার।
কিন্তু এত বড় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও মাদক কারবারীরা প্রতিদিন বঙ্গোপসাগরের উপকুল ব্যাবহার করে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে।
আর নিত্য-নতুন মাদক কারবারীর সংখ্যা বাড়ছে। অনুসন্ধানে আরো দেখা যায় মাদক পাচারে ব্যবহার হচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। তারা বেশী টাকার লোভে পড়ে এই ভয়ানক কাজে জড়িত রয়েছে।
আবার মাদক পাচারকারী রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীদের আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক রোহিঙ্গারা।
টেকনাফ ২ বিজিবি তথ্যমতে জানা যায় বিদায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সৈনিকেরা টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা মুল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এর মধ্যে রয়েছে ৪ লক্ষাধিক ইয়াবা।
এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন মাদক কানবারীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে পাচার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তবে সীমান্ত প্রহরী আমাদের বিজিবি সৈনিকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার রোধে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মাদক পাচার প্রতিরোধে আমাদের আরো সফলতা আসবে।