টেকনাফ সীমান্তে মাদকের রমরমা বাণিজ্য

yaba_tt-3456789.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ সীমান্তের স্থল ও নৌপথের চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছেনা। ইয়াবা চোরাকারবারীরা নিত্যদিন অভিনব কৌশল আবিস্কার করে ইয়াবা পাচার ও ব্যবসায় মও হয়ে উঠেছে। ইয়াবা একটি ছোটজাতের পণ্য লোভনীয় এবং এ ব্যবসা করে অল্প সময়ে বড়লোক হবার আশায় ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারকারীরা নাফ নদী দিয়ে অভিনব কৌশলে বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান টেকনাফের স্থল ও নৌপথে কর্তব্যরত আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে খালাস করে স্থানীয় আলোচিত ইয়াবা পাড়ায় হতদরিদ্র পরিবারের বাড়ীতে মওজুদ হচ্ছে। পরে বিভিন্ন যানবাহন, পরিবহন গাড়ীর আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতে ও চলে যাচ্ছে। এর সাথে জড়িত বেশীরভাগ যুব সমাজ।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আটক করেছে, টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। এতে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯০ পিস ইয়াবা রয়েছে। যাহার বাজার মূল্য ১১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ৬৬ টি মামলায় ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। ৫১ হাজার টাকা দামের ১৭০লিটার চোরাই মদে ২টি মামলা করা হয়। ৭ হাজার টাকা দামের ২ কেজি গাজায় ১টি মামলা করা হয়। ২লাখ ১৭ হাজার টাকা দামের ৮৬৮ ক্যান/বিয়ারের বিপরীতে ৯টি মামলা করা হয়। ১ লাখ ৬০ হাজার ৫শত টাকা দামের ১০৭ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করে ১টি মামলা করা হয়। ৭৫ হাজার ৬শত টাকা দামের ১৮৯ বোতল পেন্সিডিল জব্দ করে ৩টি মামলা করা হয়। ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৯ টাকা দামের অন্যান্য মালামাল এবং ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়। মোট ১১৩টি মামলায় ৩২ জন আসামী আটক এবং ১২ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার ১৮৯ টাকার মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এস,এম আরিফুল ইসলাম।

একই সময়ে টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্যে ডিসেম্বর/১৭ মাসে আমদানিতে ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেশী রাজস্ব আয় করেছে। টেকনাফ স্থল বন্দর রাজস্ব আদায়কারী (শুল্ক ষ্টেশান) প্রতিষ্ঠান সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের গত ডিসেম্বর মাসে ৩৪৫ টি বিল অবএন্ট্রির মাধ্যমে ১১ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেশী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

এতে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি করা হয় ৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ডিসেম্বর/১৭ মাসে ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অপরদিকে ৪৮ টি (বিল অব এন্ট্রির) মাধ্যমে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার ৬৯৪ টাকার পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানী করা হয়েছে।

টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক ষ্টেশান কর্মকর্তা জানান, দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত বিষয়ে উত্তেজনা প্রশমিত হবার পর স্থল বন্দরের আমদানিতে রাজস্ব আয় চাংগা হচ্ছে। তবে চোরাচালান ইয়াবা/মাদক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে সীমান্ত বাণিজ্যের উপর বিরোপ প্রভাব পড়ছে।