উখিয়ায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলে চরম দূর্ভোগ, রেজুখালের উপর ব্রীজ নির্মাণের দাবী

Reju-Khal-300x192.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পিনজিরকুল-তুতুরবিল গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত রেজুখালের উপর ব্রীজ না থাকায় জনদূর্ভোগ চরমে। উপজেলার রত্না পালং ও রাজাপালং দু’ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ও চলাচল সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা অতীব জরুরী হয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কোন দেখভাল নেই। ফলে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের পারাপারে ব্রীজটি অতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জোরালো হয়ে উঠেছে। অথচ এ ব্যাপারে কারো কোন মাথাব্যাথা নেই জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকার জনসাধারণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেজু খালের উপর ব্রিজটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বহু আবেদন-নিবেদনও করা হয়েছে স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসনের নিকট। আশ্বাসের বাণী পাওয়া গেলেও ব্রীজ নির্মানের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এমনটা জানিয়ছেন সচেতন এলাকাবাসী। ব্রীজ না থাকায় দুই ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রামের মানুষের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ প্রায় ৫০ হাজারের অধিক সাধারণ মানুষের চলাচলে দূর্ভোগে রয়েছে।
উখিয়া উপজেলার রেজু নামক এ নদীটি পার হয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন যাতায়াত করে। এখানে ব্রিজের অভাবে কৃষকের উৎ্পাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু পারাপারের সময় তাদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে কোমলমতি শিশু-কিশোররা নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে না। স্থানীয় গ্রামবাসীর অর্থায়নে ১টি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। গত বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে সেতুটি বিধ্বস্ত প্রায়। অবহেলিত গ্রামবাসীরা চলাচলের অযোগ্য সেতু দিয়ে রশি বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন রকম পারাপারের ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে প্রায় সময় দূর্ঘটনা ঘটে আহত হচ্ছে পথচারী।
উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থী পার্থ বড়–য়া, ব্রীজটি স্থায়ী ভাবে নির্মাণ পূর্বক দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কোমলমতি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীদের দু:খ লাঘব করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এলাকাবাসী রোস্তম বলেন, শুধুমাত্র একটি ব্রীজের কারণে নানান সুবিধা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ। তাই পশ্চিমরতœা-রেজুরকুল সংযোগ স্থলে রেজু খালের উপর একটি ব্রীজটি নির্মাণ করে চলাচলের প্রধান মাধ্যমটি ঝুঁকিমুক্ত করা এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী।
রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে পিলার দিয়ে ব্রীজটি জনচলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে স্থায়ী ব্রীজটি নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগী ও উখিয়া কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহ আলম জানান, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তৈরি কাঠের ব্রীজটিও গত বন্যার পানির স্রোতে জনচলাচলের অনুপযোগী পড়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে চেয়ারম্যান ইউ.পি থেকে বরাদ্ধের মাধ্যমে একটি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ করা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান ।
দীর্ঘকাল যাবত সরকারের পক্ষ থেকে ব্রীজটি নির্মাণের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সেহেতু ব্রীজটি পুন: সংস্কারে গ্রামবাসী ও উভয় পাড়ের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান শিক্ষক মিলন কুমার বড়ুয়া।
এ প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল আলীম লিটন বলেন, ব্রীজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বিধায় আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Attachments area