ফিরে দেখা ২০১৭ : বিশ্বজুড়ে আলোচিত রোহিঙ্গা সংকট

Rohingha-pic_balokhalitt-pic.jpg

বালুখালী পাহাড়ে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নির্মিত ঘর

বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নানা সমস্যায় জর্জরিত সাধারন মানুষ
**********
গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :
বিদায়ী ২০১৭ সালের এই বছরটি ছিল উখিয়া+টেকনাফ এই দুই উপজেলার জন্য আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রস্থল।
কারন বিদায়ী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে লাগাতার তিন মাস যাবত মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর রাখাইন সেনাদের অমানবিক বর্বরতা,জুলুম,নির্যাতন ও গনহারে মানুষ হত্যা। সেই নির্মম নির্যাতন এবং নিজের প্রান রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশের উখিয়া+টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর-নারী। ২০১৭ সালের শেষের দিকে এই তিনটি মাস রোহিঙ্গাদের আগমনের গন-জোয়ার ঘটে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়। তার পাশাপাশি তাদের বসতি স্থাপন করে দেয় পর্যটন নগরী খ্যাত উখিয়া+টেকনাফে। এতে আগত রোহিঙ্গারা শান্তিতে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের কারনে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই দুই উপজেলার সাধারন মানুষ। দিনের পর দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ বনভুমি গুলো।
বর্তমানে এই এলাকার মাদক পাচারসহ এমন কোন অপরাধ কর্মকান্ড নেই,যেখানে রোহিঙ্গারা জড়িত নয়।।
এদিকে রোহিঙ্গাদের আগমনের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার বারবার রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবে কখন কোন সময় কার্যকর হবে সেই প্রশ্ন রয়ে গেল।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচিত সমালোচিত ২০১৭ সাল বিদায় নিয়ে চলে গেলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমানে অত্র এলাকায় নতুন পুরনো মিলিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
বিদায়ী বছরে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নিয়ে কঠিন সময় মোকাবিলা করছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক সদস্যরা।
সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে।
আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রান বিতরন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে প্রসাশনের কর্মকর্তারা।
তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভুমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। তবে সেই সু-খবরটি কখন বাস্তবায়িত হবে তা সঠিক ভাবে জানা যাচ্ছে না। কারন মিয়ানমার সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে এখনো কোনো পথ তৈরি করছে না।
২০১৮ সালেও এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে কিনা তা সন্দেহে রুপ নিয়েছে।
অপরদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের সরকারকে সারা বিশ্ববাসী চাপ প্রয়োগ করলে মিয়ানমার সরকার কিছুটা নমনীয় হয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে তাদের তেমন কোন আগ্রহ নেই।
বাংলাদেশে আগত ও মিয়ানমারে অমানবিক নির্যাতনে নিহত হওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রচার হলে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এই সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলেই অভিহিত করে।
তার পাশাপাশি উখিয়া+টেকনাফ সীমান্তে আশ্রিত হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রান সহয়তা নিয়ে আসে ইন্ডিয়া,ফ্রান্স,মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান,কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশ ও সংস্থা। পাশাপাশি তারা এই সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানবিক সংকট বন্ধে কাজ করতে তাদের বিশেষ দূতকে নিয়োজিত করে।
বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা ছাড়াও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী,ফার্স্টলেডিসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তারা কক্সবাজারে উখিয়া টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করে মানবিক বাংলাদেশের এই মহত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্যঃ-২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট থেকে এই পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা।
সেই অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত।
এই সমস্ত রোহিঙ্গারা আসছে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের বুচিডং, রাসিডং,পেরাংপ্রুসহ মংডু থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার সু-শীল সমাজের ব্যাক্তিরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন বিগত কয়েক বছরে রোহিঙ্গাদের ধারাবাহিক আগমনের ঢলে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে অত্র এলাকার সাধারন মানুষ। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন বছর আসছে বছর যাচ্ছে অতচ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই এলাকার আপাময় জন-সাধারন। কারন এই দুই উপজেলার মধ্যে এমন কোন অপরাধ কর্মকান্ড নেই যেই অপরাধে রোহিঙ্গা জড়িত নেই।
অত্র এলাকায় চুরি,ছিনতাই,খুন,রাহাজানী,মাদক পাচারসহ সমস্ত অপরাধে ব্যাবহার হচ্ছে রোহিঙ্গারা তাই আমাদের দাবী পর্যটন খ্যাত উখিয়া+টেকনাফ এই দুই উপজেলাকে রোহিঙ্গা মুক্ত করা হোক।।
অচিরেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহন না করলে ২০১৮ সালের নতুন বছরেও বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা অব্যাহত রাখতে হবে।