ফলোআপ : পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মী করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল নুরুল আলম

nurul-Alam_yaba.jpg

পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মি করে মাদক ব্যবসা চালাতো নুরুল আলম

বিশেষ প্রতিবেদক : গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১টারদিকে টেকনাফ কোস্টগার্ড ষ্টেশনের জওয়ানেরা
পল্লান পাড়া এলাকায় একটি লেগুনা গাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিদেশী বিয়ার ও মদসহ ২জনকে আটক করে।

এদের মধ্যে একজন হচ্ছে পৌর এলাকার পুরান পল্লান পাড়ার সৈয়দ মুরাদের পুত্র নুরুল আলম (২৬)।

সে উপজেলা মিনি পিক-আপ শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি ভুইফোঁড় শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের আড়ালে শ্রমিকদের জিম্মি করে নুরুল আলমের ইয়াবা ও মাদক পাচারের নানা কাহিনী।

জানা যায়, মাদক সহ ধৃত বেকার যুবক নুরুল আলম বেশ কয়েক বছর আগে ইয়াবা তথা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এক পযায়ে মাদক পাচার বাড়াতে চলতি বছরের শুরুতে
উপজেলা মিনি পিক-আপ শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি ভুইফোঁড় সংগঠন গঠন করে। সেই সংগঠনটির রাতারাতি রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করে বলে জানা যায়। টেকনাফ বাস স্টেশনের আবু সিদ্দিক মার্কেটে সংগঠনের নাম দিয়ে একটি অফিস খুলে বসে।

তবে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিক সংগঠনের নাম দিয়ে শ্রমিকদের জিম্মি করে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা চালানো। তারই ধারাবাহিকতায় সে সংগঠনের নাম দিয়ে প্রতিদিন যানবাহন থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করতো। আবার পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মি করে ইয়াবা ও মাদক পাচার চালিয়ে যাচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, মাদক পাচারে রাজী না হলে তাদেরকে মারধর করা হতো এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে বলে হুমকি দিতো।

এভাবে সে ইয়াবা ও মাদক পাচার এবং চাঁদাবাজি করে রাতারাতি বহু টাকার মালিক বনে যায়। শুধু পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করে সে লাখ লাখ টাকা আয় করতো।

এদিকে নুরুল আলম মদ বিয়ার সহ আটক হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে স্বস্থি ফিরেছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে তার সংগঠনের নাম দিয়ে এখনও তার সহযোগীরা পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

চাঁদাবাজি ও মাদক পাচার বন্ধে নুরুল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১টারদিকে টেকনাফ কোস্টগার্ড ষ্টেশনের কমান্ডার লেঃ জাফর ঈমাম সজিব (এক্স) বিএনভিআর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহল দল নিয়ে উপজেলার পৌর এলাকার পল্লান পাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি লেগুনা গাড়ি, ৬শ ২০ক্যান সিংহা বিয়ার, ৫০বোতল গ্র্যান্ড রয়েল হুইস্কিসহ স্থানীয় নুর হোসেনের পুত্র নুর মোহাম্মদ (২৫) ও সৈয়দ মুরাদের পুত্র নুরুল আলম (২৬) কে আটক করেছিল। পর তাদেরকে থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।