‘বিচার বিভাগকে স্বার্থে ব্যবহারের জন্য রিভিউ’

suprime-cort-bar-20171225165503.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ করেছে।

সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বিচারবিভাগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য জুডিশিয়াল ক্যু করে সরকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বিদায় করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে সু কৌশলে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ৯৪টি যুক্তি দিয়ে এ রিভিউ করছে। গতকাল ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং আজ পত্র-পত্রিকায় রিভিউ আবেদন করার খবর দেখলে মনে হয় তারা সুপ্রিমকোর্টকে পূর্ণনিয়ন্ত্রণে নিতে এ কাজ করেছে।

ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করে পুরো রায় বাতিলের চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায় দেওয়ার কারণেই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের একটি রায় ঘোষণার পর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন দেশে থাকতে পারেননি। ষোড়শ সংশোধনীর রায় ঘোষণার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে দেশে থাকতে দেয়া হয়নি। এখন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে কোর্টে মামলা চলছে সেই বিচাকের ওপর প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আপিল বিভাগের রায় প্রদানকারী ৭ জন বিচারপতির মধ্যে ৫ জন কর্মরত আছেন। বিচারপতিরা তাদের পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে এ রিভিউপিটিশনটি নিষ্পত্তি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বার সভাপতি বলেন, সরকার নিজেদের স্বার্থে বিচার বিভাগকে পরিচালিত করতে চান। তারা যেভাবে চান সেভাবেই আদালতকে রায় দিতে হবে, যদি তা না করা হয়, বিচারপতি এসকে সিনহার মতো তাদেরকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। এভাবেই তারা অন্যান্য বিচারপতিদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার খালেদা জিয়ার মামলার রায়কেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগ হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। এটা স্বীকৃত যে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবেন এবং সে আইন সংবিধান মোতাবেক হয়েছে কি-না এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না এবং কোনো দলের বা ব্যক্তির স্বার্থে কিনা- তা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে সে দায়িত্বই পালন করেছেন। অথচ এ রায়ের পর সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে অহেতুক অসৌজন্যমূলক ও আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধামূলক বক্তব্য রেখেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।

তিনি বলেন, অতীতে বহুবার বে-আইনি সংশোধনীর বিরুদ্ধে অনেক সিদ্ধান্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছেন, কিন্তু সে সিদ্ধান্ত এবং আদেশের বিরুদ্ধে সরকার এভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো রিভিউ আবেদন করেছেন বলে আমাদের জানা নাই।

তিনি আরও বলেন, একটি রায়ের মধ্যে সরকারের মতে দু-একটি পর্যবেক্ষণ অপ্রসাঙ্গিক থাকতেই পারে। কিন্তু বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের জন্য ৯৪টি যুক্তি দেখিয়েছেন। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমেই সুকৌশলে ব্যবস্থা নিতে চায়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ সৃষ্টি করে তাকে বিতর্কিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে তারা।

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, তাই তারা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন। যে ৭ বিচারপতি এ রায় দিয়েছিলেন তার মধ্যে ৫ জন এখনও আপিল বিভাগের দায়িত্বে আছেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি তারা পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে সরকারের রিভিউ আবেদন বাতিল করবেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য কর্মসূচি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সম্পাদক শামীমা সুলতানা দীপ্তি, সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম অলিউর রহমান খান, আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মেহেদী, কামরুল ইসলাম সজল, আবেদ রাজা, খোরশেদ আলম, সগীর হোসেন লিয়ন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, এএইচ এম কামরুজ্জামান মামুন প্রমুখ।