স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও টেকনাফের বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থান সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি

Copy-of-teknaf-sohid-kobor-pic-from-Rasel-copy.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ |
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত টেকনাফের বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ। অথচ বধ্যভূমি, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত স্থান চিহ্নিত ও সংরক্ষনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। কয়েক বছর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম শাহ হাবীবুর রহমানের নেতৃর্ত্বে এসংক্রান্ত গঠিত জেলা কমিটি টেকনাফের ঐতিহাসিক সেই বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থান পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর এ কমিটির আর কোন তৎপরতার খবর জানা যায়নি।

জানা যায়, টেকনাফ পল্লান পাড়া এলাকায় হেচ্ছার খাল সংলগ্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে ও এর আশেপাশের পাহাড়ী এলাকাটিকে বধ্যভূমি হিসাবে ব্যবহার করেছিল পাক হানাদার বাহিনী।

যেখানে পাকবাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করতো। চকরিয়া কাকারার বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ আব্দুল হামিদের মৃতদেহ স্বাধীনতার লগ্নে তার স্বজনরা এই বধ্যভূমি থেকে শনাক্ত করে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মাষ্টার আব্দুস শুকুর জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন বিজয় সিং এর নেতৃত্বে মিত্রবাহিনীর টেকনাফ আগমনের পর মিত্রবাহিনীসহ মুক্তিযুদ্ধারা ঐতিহাসিক সেই বধ্যভূমিটি আবিস্কার করেন। পরে ২৮ জন বীর মুক্তিযুদ্ধার ছিন্ন ভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধার করে পৌর কবরস্থানের পাশে সমাহিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধারা। যেখানে পরবর্তীতে একটি শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছিল। যা বর্তমানে পৌরসভার ইদগাহ মাঠ সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও ৭১ এর সেই বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থানটি আজো সংরক্ষন করা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের টেকনাফ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হেচ্ছার খালের বধ্যভূমিতে পাকবাহিনী বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করতো। স্বাধিনতার পর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা এ বধ্যভূমিটি আবিস্কার করেন। পরবর্তীতে এখান থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে পৌর কবরস্থানের পাশে সমাহিত করা হয়েছিল ।

টেকনাফ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার জহির আহমদ জানান, বধ্যভূমি সংরক্ষণ জেলা কমিটি টেকনাফের ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করলেও ঐস্থানটি আজও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও এখনও বধ্যভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেটি সংরক্ষন করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে বধ্যভূমি সংরক্ষনে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, টেকনাফের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। যা দ্রুত সময়ে সরকারী ভাবে সংরক্ষণ করা দরকার। না হয় ইতিহাস বিকৃত হবে অতীতের মতো তাতে সন্দেহ নেই। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এ প্রসংগে টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, যেহেতু বধ্যভূমি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধি স্থান পৌর এলাকায়। তাই এটি পৌরসভা কতৃপক্ষ উদ্যোগ নিতে পারেন।