হেরে গেলেন টেকনাফে যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী বেচা আলী !

download.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :
ইউছুপ আলী প্রকাশ বেচা আলী (৮২)আর নেই। তিনি ১০ ডিসেম্বর মারা যান। তিনি ১৯৭১ সালে মানবতা বিরুধী ও সংঘঠিত যুদ্ধাপরাধ ঘটনার একটি মামলার বাদী। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত টেকনাফে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো মানবতা বিরুধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্য্যুনালে ঝুলে আছে। এ মামলায় আসামী করা হয়েছে সাবরাং ইউনিয়নের আছারবনিয়া গ্রামের এজাহার আহমদ কেরানীর ছেলে তিন ছেলে জালাল উদ্দিন মুন্সি (সাল সাং-টেকনাফ পল্লান পাড়া), ফজলুল হক ও আমিনুল হককে। বাদী মামলার আবেদনে বলেন, প্রথম জন শান্তি কমিটির সদস্য ও শেষের দু’জন সক্রিয় রাজাকার সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে পাকিস্থানী সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় এলাকায় ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া, লুটপাঠ ও নারী ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এ সময় বাদী বেচা আলী থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী আব্দুল করিম, আওয়ামীলীগ নেতা মো: ইব্রাহিম প্রকাশ মার্কিন মিয়া, হাজী আমির হামজা ও হাজী আব্দুর রহিমকে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেন। শুধু তাই নয় আওয়ামীলীগ সভাপতি ছাত্রনেতা আব্দুর রহমানকেও বার্মাতে লুকিয়ে রাখেন। হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় বিবাদীগন উল্লেখিত নেতাদের বাড়ী ঘরে লুটপাঠ ও অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। বেচা আলী মুুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও আওয়ামীলীগ নেতাদের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখছে এমন কর্মকান্ডের খবর পেয়ে ১৯৭১ সালেরর এপ্রিল মাসের শেষের শুক্রবারে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সাথে সাথে শত শত মুসল্লীদের সামনে কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে হাজী আব্দুল করিম ও ছেলে আব্দুর রহমানকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছি, তাদেও স্বর্ণালংকারের খোজঁ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে । এতেও রাজি না হওয়ায় লোহার রড দিয়ে মাথা ও শরীর ক্ষত বিক্ষত করে। এসব অত্যাচার দেখে সয্য করতে না পেরে বেচা আলীর বৃদ্ধ মা মকিমুরনেচা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চাইলে মাকে লোহার রড দিয়ে আহত করে বিবাদীরা। এর কয়েক দিন পর আহত মকিমুরনেচা মারা যান। শুধু তাই নয় বেচা আলীর বাড়ী লুট করে ১২ ভরি র্স্বণ ও গোয়াল ঘর হতে ২ টি হালের বলদ নিয়ে যায়। এ ছাড়া বেচা আলীকে আসামীরা সাবরাং ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নজির আহমদের কাছে সোর্পদ করা হয়। সেখানেও মারধর শেষে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে স্থানীয় সৈয়দুর রহমান ও মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। খোজঁ নিয়ে জানা যায়, বেচা আলীর পরিবারের কাছে আর কোন টাকা না থাকায় শাহপরীরদ্বীপরে সোনালী ফকির থেকে ২০ হাজার টাকা হাওলাদ করে মুক্তিপনের দাবী মিটানো হয়েছিলো। বাদী এজাহাওে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক পরিন্থিতি অনুকূলে না থাকায় এতো দিন মামলা করতে বিলম্ব হয়।
পরে ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল মামলাটি আদালত আমনে নিয়ে ৬২/২০১০ স্বারক মূলে টেকনাফ থানাকে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে বলে। মামলার তৎসময়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বলেন, মামলাটি দেশে বিদ্যমান প্রচলিত আইনে না হয়ে মানবতা বিরুধী ও যুদ্ধাপরাধের ধারায় হওয়ায় বিশেষ ট্রাইব্যাুনালে প্রেরণ করা হয়েছে। ট্রাইব্যাুনালের একটি সুত্র জানিয়েছে মামলার গুরুত্ব অনুসারে টেকনাফে এ মামলাটি আরো পরে তদন্ত কার্যশুরু হবে। আগে দেশের অন্যান্য এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ এ সংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে মামলার বাদী বেচা আলীর ছেলে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মুফিজুর রহমান বলেন, আমার পিতা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের পাশে থেকেছেন , নিযার্তিত হয়েছেন। তারঁ বড় স্বাধ ছিলো জীবদ্দ¦শায় এ মামলার গৃহিত পদক্ষেপ দেখতে পারবেন। কিন্তা তা হয়ে উঠেনি। তিনি আরো বলেন, তার পিতা বেচা আলী এ মামলা দায়ের করার কারনে শেষ সময় পর্যন্ত রাজাকার-আলবদর সমর্থকদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকারও হয়েছেন। এরপরও দমে জাননি। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে দরখাস্ত দিয়ে মামলাটি গতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। অপর দিকে মামলার অন্যতম ভিকটিম অবসর প্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, মুত্তিসংগ্রামের সময় আমার বাড়ী ঘরে শুধু আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়নি। আমাকে ও পিতাসহ পরিবারের অনেক সদস্যরা হন্যে হয়ে খুজেঁছিলো রাজাকার ও শান্তি কমিটির এইসব সদস্যরা। কিন্ত এই মক্তিকামী বেচা আলী আমাদের অনেককে নৌকা যোগে মিয়ানমার ও বিভিন্ন উপায়ে কক্সবাজাওে সরিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। এবং একজনের সাথে অপর জনের যোগাযোগ সমন্বয় করতে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি এ মামলাটির দ্রুত বিচার পক্রিয়া শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।