নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের পরদিন পেকুয়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে শারীরিক নির্যাতন

2-2.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের একদিন পরই গতকাল জেলার প্রথম নারী নির্যাতনের ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়। যৌতুকের জন্য স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন নাজমা সুলতানা নিশাত (২২) নামের এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে সে পেকুয়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোববার (১০ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ একই এলাকার আবুল কাসেমের মেয়ে।
আহত গৃহবধূর পিতা আবুল কাসেম বলেন, একই এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে বোরহান উদ্দিন মানিকের সাথে গত তিন বছর পূর্বে সামাজিকভাবে আমার মেয়ে নাজমা সুলতানার বিয়ে দিই। বিয়ের সময় বরপক্ষের দাবীকৃত নগদ টাকা ও আসবাবপত্র দিই। বিয়ের দু’বছর মেয়ের সাথে সে সুন্দরভাবে সংসার করে। তাদের কোলজুড়ে আসে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু গত একবছর ধরে সে পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে যৌতুক দাবী করতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বামী পরিবারের দাবীকৃত যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সে আমার মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। দিনদিন তার নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে। কিছুদিন আগে আমার মেয়েকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় আটকে রাখে সে। পরে গ্রামপুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমি চিকিৎসা দিই। এসময় পেকুয়া থানায় আমরা অভিযোগ দিলে পুলিশ থাকে ধরে আনে। এসময় পুলিশের মধ্যস্থতায় মিমাংস করে মেয়েকে আবার তার ঘরে পাঠাই। কিন্তু এতেও সংসারে সুখ ফিরলো না মেয়ের। সর্বশেষ রোববার দুপুরে আবারো মারধর করে তাকে আহত করা হয়। এবং বিনা চিকিৎসায় আমার মেয়েকে আটকে রাখা হয়। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করি।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূর পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##