নাফনদীতে জেলেদের মাছধরা নিষিদ্ধ হলেও অবৈধ ঘাটসমূহ সচল

U.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : প্রশাসন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিকল্প হিসাবে মৎস্যজীবি জেলেদের নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা জারী করে এবং সুবিধা হাসিলে মত্ত হয়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। চলতি বছর ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারের সেনা বাহিনী ও উগ্রপন্থী রাখাইন মিলে সন্ত্রাস দমনের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন নির্যাতন গণহত্যা ধর্ষন ও ঘরবাড়ী জ্বালাও পোড়াও করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফ সীমান্তের ৫৩ কিলোমিটার বিভিন্ন পয়েন্টে দলে দলে রোহিঙ্গা নারী পুরুষও শিশুরা শরণার্থী মর্যাদা পাবার উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ ঘটে। পরবর্তীতে দেশীও বিদেশী বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সাহায্য সংস্থা (এনজিও) আর্তমানবতার সেবায় সাহায্যের হাত প্রসারিত করলে নাফ নদী ও সাগর পথে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঢল নামে। এ সুযোগকে পুঁজি করে সীমান্তের অতীতের মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী এবং মৎস্যজীবি জেলেরা দালাল সেজে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে রমরমা বাণিজ্য করে। সেই সাথে সীমান্তের শীর্ষ ও নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এ সূবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগায়। এ অবস্থায় সীমান্তের প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবি জেলেরা এখন বেকাত্ব মানবেতর জীবন যাপন করছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জন্য প্রশাসন মৎস্যজীবি জেলেদের সন্দেহের তীর প্রদর্শন করলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে নাফ নদীতে জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ করে দেয়। সীমান্তে অনুসন্ধান করে জানা যায়, দিনের বেলায় রোহিঙ্গা প্রায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও সীমান্তের চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে নিশীরাতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি কৌশলে ঢুকছে বস্তা বস্তা ইয়াবা। যদিও প্রশাসন নাফ নদীতে মাছধরাও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকালেও টেকনাফ সীমান্তের অঘোশিত ঘাট কিন্তু বন্ধ হয়নি। এসব ঘাট দিয়ে নিশীরাতে ও ভোরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে আসছে ইয়াবার চালানও। আলোচিত ঘাটগুলোর মধ্যে হ্নীলা ওয়াব্রাং, জাদীমূড়া, টেকনাফ পৌরসভার উত্তর নাইট্যং পাড়া টেকনাফ সদর বরইতলী, নাজিরপাড়া, সাবরাং আলোগুলা চিংড়ী প্রজেক্ট, নয়াপাড়া, ০৪নং স্লুসগেট শাহপরীরদ্বীপ, জালিয়া পাড়া, ঘোলার পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, কাটাবনিয়া ও খুরের মূখ। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়তই দফায় দফায় রোহিঙ্গাদের বহর এর সাথে ঢুকছে, বস্তা বস্তা ইয়াবা। সীমান্তের ওয়াকিবহাল মহলের মতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মরণব্যাধী ইয়াবা ঠেকাতে হলে, উল্লেখিত চলমান অবৈধ ঘাটগুলো বন্ধ এবং নজরদারী বাড়াতে হবে। নচেৎ এর বিকল্প কোন পথ নেই। সেই সাথে মানব ব্যবসার সাথে যারা জড়িত দালাল এবং ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রাখতে হবে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় তালিকাভূক্ত মানব পাচারকারী দালাল ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। যার কারণে এ দুটো সমস্যা ক্রমান্নয়ে বাড়ছে। এমতাবস্থায় প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবি জেলে পরিবারে চলছে দুর্দিন। রোহিঙ্গাদের কারণে এরা ক্ষতিপ্রস্থ হলেও গত ৮ ডিসেম্বর এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে তাদের ভাগ্যে জুটেনী আর্থিক সহায়তা। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবারের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছে। এমন মন্থব্য করছেন, সমাজের বিশিষ্ট জনেরা।