জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের নিন্দায় নিরাপত্তা পরিষদ

us_security_council_condemn.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : জেরুজালেমকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিন্দা করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। অনেকটা ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে এ নিন্দা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, জাপানসহ বেশ কয়েকটি সদস্যদেশ। খবর: আলজাজিরা।বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তৃতার সময় জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির কথা জানান এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন।
তার এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বহু হতাহত হয়েছে। গাজার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস নতুন করে ইন্তিফাদার ঘোষণা দিয়েছে।এমন অস্থিতিশীল অবস্থার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রেক্রফট নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন।এই জরুরি বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যভুক্ত আটটি দেশকে ডাকা হয়। বৈঠকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডে মারাত্মক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।বৈঠকে জাতিসংঘে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ওলফ সোকং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে।জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রানকোয়েস ডিলাত্রি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এতে দ্বি-রাষ্ট্রের সমাধান পরিকল্পনায় প্রভাব পড়বে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে।
তবে বৈঠকে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবগত আছেন। তিনি মনে করেন, ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত অগ্রগামী পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, একপক্ষ একতরফাভাবে কখনো শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে না। বিশেষ করে যারা দখলদার ইসরাইলের হয়ে প্রভাবিত কাজ করেন, তাদের পক্ষে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে নিরাপত্তা পরিষদের জোরাল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।