নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

pm-hasina-20170928000246.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বিএনপিকে ভোটে আনতে দলটির নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা দেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আগামী নির্বাচন হতে পারে। আমরা এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে, এখন নির্বাচন দিতে হবে।”গত নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল- সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না।
“বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না।”সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধান।
এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী জ ই মামুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান। আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না।”
কয়েকটি মহলে আগাম নির্বাচনের আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত ২৯ নভেম্বর সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নয়, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
সেই প্রসঙ্গ টেনে গণভবনের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে আরও সময় দরকার। আমরা গেলে উন্নয়ন কাজের কী অবস্থা হয়…।”
তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর গত প্রায় নয় বছরে দেশের যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, ‘এত অল্প সময়ে’ এতটা উন্নয়ন আর কেউ করে দিতে পারেনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত জাতীয় সম্মেলনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন হবে- সেটাই তিনি চান।
সেই প্রসঙ্গ টেনে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত জানতে চান, নির্বাচনে সব দলকে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না বা আলোচনার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হবে কি না।
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিনেত্রীর দিকে ইংগিত করে বলেন, “তাকে বরণ ডালা পাঠাতে হবে?”
নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে ফোন করে গণভবনে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
কিন্তু তাতে সাড়া না পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কার সঙ্গে আলোচনা? কিসের প্রস্তাব! একবার প্রস্তাব দিয়ে যে ঝাড়িটা খেলাম… তাকে আর প্রস্তাব দেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।”
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। এখানে সরকারের কিছু করার নেই।
২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর বিএনপি নেত্রীকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সে কথাও শেখ হাসিনা বলেন।
“আর যাই হোক আমি প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে যখন মারা গেল, আমি তার বাড়িতে গেলাম। কিন্তু আমাকে ঢুকতে দেওয়া হল না। এই ধরনের ছোটলোকিপনা যারা করে; তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন কোন মুখে?”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এটিএন বাংলার জ ই মামুনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আবারও বলব, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসা প্রত্যেকটা দলেরই কর্তব্য। যে দল নিজের দলেও গণতন্ত্র চর্চা করে না, তারা নির্বাচন করবে কি করবে না, সেটা নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের করার কিছু নাই।
“একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যারা যারা বিশ্বাস করে তারা নির্বাচন করবে, আর যারা মনে করে যে, কেউ উপর থেকে ফলটা ছিঁড়ে খাইয়ে দেবে, নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, সেখানে আমাদের কী করণীয় আছে? আমাকে বলেতো লাভ নেই।”
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে আগামী বছরের শেষ দিকে। তার আগে বিএনপি যদি ২০১৫ সালের মত ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালায়, তাহলে জনগণ তার ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপতার বিষয়ে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “একটাই উত্তর, শতফুল ফুটতে দেন।
“অনেক প্রার্থী হোক, সেটা তো ভালো। এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। আমরা দেখব, শতফুলের মধ্যে কোন ফুলটা সবথেকে সুন্দর সেটা বেছে নেব।”
সেই বেছে নেওয়ার কাজটি আওয়ামী লীগ কীভাবে করবে- ‘সময়ই তা বলে দেবে’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলে ‘গোপন জরিপের’ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “অন্তত রেড জোনে কেউ নাই। অবশ্যই জরিপ আমাকে করতে হবে। আমার এমপিরা কে কীভাবে কাজ করছে, জনগণের কাছে কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা- সেটা নিশ্চই আমাকে জানতে হবে।
“কিন্তু সেই পদ্ধতিগুলো নিশ্চই বলার না। এগুলো আমি সবার সামনে বলব না। আমি যদি কারও কোথাও দুর্বলতা দেখি, নিশ্চই তাকে সে বিষয়ে সতর্ক করি।”
প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস, দেশের মানুষ উন্নয়ন চাইলে আবারও আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে।
“আরও নতুন নতুন সিট আমরা পাব বলে আশা করি। যেখানে পরিবর্তন করা দরকার, সেখানে পরিবর্তন করব। এখনো একবছর সময় বাকি আছে। একবছর পর নির্বাচন। ডেঞ্জার জোন এখন আওয়ামী লীগের জন্য সৃষ্টি হয়নি।”
সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার নামে সম্পত্তি থাকার যে খবর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সে বিষয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের টাকা যারা এভাবে বাইরে নিয়ে গিয়ে বিলাসব্যাসনে ব্যয় করছে, আমার দেশের মানুষকে বঞ্চিত করছে, দেশের মানুষ তাদের বিচার করবে। দেশের আইন অনুযায়ী নিশ্চই তার বিচার হবে “
এজন্য দেশের জনগণকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
“আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তাকে আসতেই হবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”