চকরিয়ায় ৩৭বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার অসহায় পরিবার!

Chakaria-Picture-07-12-2017.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ায় স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অসহায় মুক্তিযোদ্ধা বয়োবৃদ্ধ হুমায়ুন কবির। তাঁর পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত কয়েক কোটি টাকার ভূসম্পদ জবর দখল রেখেছে প্রভাবশালীরা।
মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির অশ্রæজলে জানান, তাঁর পূর্বের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান গ্রামের মহাজন পাড়ায়। তাঁর পিতা মৃত জ্যোতিষ দাশ ও তাঁর নাম ছিল দীলিপ কুমার দাশ। চট্টগ্রামের চুনতির মরহুম মাওলানা হাফেজ আহমদ (শাহ সাহেব কেবলা (র:)এর নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তার নাম রাখেন হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবির (দীলিপ কুমার দাশ) মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন। তিনি যুদ্ধকালীন এক নম্বর সেক্টরে গেরিলা বাহিনী গ্রæপ কমান্ডার একে এন শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৫ বছর সময় অতিবাহিত হলেও স¤প্রতি মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনাললে। কিন্তু এখনো কোন সহযোগিতা পাননি। তাঁর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া তাঁর বড় ভাই আশুতোষ দাশ মহাজনকে ১৯৭৫ সালের ৮ই মার্চ কলাউজান গৌরসুন্দর মহাজন বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই হত্যাকান্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা (নং ৩৯৬ জি.আর-৫৪/৭৫, সি.এস-৯২) দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকও করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী, আতউর রহমান খাঁন কায়ছার ও এম ছিদ্দিক এম.পি’সহ অনেকেই। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তারা দুই ভাইকে লাইসেন্সসহ ২টি বন্দুক ও ২টি পাসপোর্ট (সিরিয়াল নং- ১২১৩ বি,পি,পিÑনম্বর ১৩৪ (সেকশন রুল) পাসপোর্ট নং Ñ বি ০৮২৯৮) উপহার দেন। এমনকি এ জঘন্য ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির ও আশুতোষের পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্বও নিয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করায় বর্তমানে তিনি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তিনি আরও জানান, ১৯৭৫ সালের ২১ই আগস্ট তৎকালীন ২৫০ জন সেনাবাহিনী তাঁর পূর্বের পৈত্রিক বাড়ি থেকে তাঁকে সিকিউর (অপহরণ) করে নিয়ে যায়। তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি আর্মি ক্যাম্পে আটকে রেখে ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি না করার জন্য মুচলেখাও নেন।
গত ৩৭ বছর ধরে হারবাংয়ের তাঁর শাশুড় বাড়ির পার্শ্বে একটি কুড়েঁঘরে দূর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। সম্ভান্ত জমিদার পরিবারের ঘরে জন্ম নেয়া মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত কয়েক কোটি টাকার সম্পদ তাঁর অসহায়ত্বের সুযোগে জবর দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাঁর দেয়া তথ্য মতে চট্টগ্রামের কলাউজান, লোহাগাড়া, কক্সবাজারে চকরিয়ার হারবাং ও মানিকপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৭ একর জমি থাকলেও বর্তমানে এক কড়া জমিও তাঁর দখলে নেই। এসব জমি উদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।