উখিয়া-টেকনাফে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ৬২ হাজার শিক্ষার্থীদের হাতে হাই এনার্জি বিস্কুট

Pic-Ukhiya-08-12-2017.jpg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া : বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির আওতায় ও আমেরিকান জনগণের আর্থিক সহযোগীতায় (USDA) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে তিনশত চারটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্কুল ফিটিং ফুর্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে চলমান রয়েছে ওয়ার্ল্ড ফুড্ কর্মসূচির মাধ্যমে অপুষ্টিহীন শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর বিস্কিট বিতরণ কার্যক্রম। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন উপস্থিতির ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীকে ৭৫ গ্রাম ওজনের হাই এনার্জি বিস্কিট দেওয়া হয়। এছাড়াও এ প্রকল্পটি সকল শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করে থাকেন।
গত ৫ ডিসেম্বর ওয়ার্ন্ড ফুড্ প্রোগ্রামের উচ্চ পর্যায়ের টিমে ছিলেন অষ্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি জেমির নেতৃত্বে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি অফিসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রতিনিধিসহ ৫ সদস্যের প্রতিনিধি। এই প্রতিনিধি দল উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের নতুন পাড়া জাফর আলম চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দল বেলা ১২ টায় স্কুলে পৌঁছলে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য, অভিভাবক বৃন্দ ও প্রধান শিক্ষক মোকতার আহমদ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে তাদেরকে অর্ভ্যথনা জানান। প্রতিনিধি দল স্কুলের ফুলের বাগান, আঙিনা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন। পরে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে প্রতিনিধি দল বিস্কিট বিতরণ করেন ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে নতুন পাড়া জাফর আলম চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকতার আহমদ জানান, উখিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা জাফর আলম চৌধুরীর একান্ত আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও নিজের এক বিঘা অথাৎ ৪০ শতক জমি দানের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালে উখিয়া সদরের পূর্বে সন্নিকটে সিকদার বিল গ্রামে নতুন পাড়া নামে জাফর আলম চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাফর আলম চৌধুরী প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে সরকারী বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বিদ্যালয়ের পড়া লেখার গুণগত মান সার্বিক অবস্থা পরিছন্ন ও সুন্দর হওয়ায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি স্কুল ফিটিং ফুর্ড কার্যক্রম ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আনুষ্ঠানিক বিস্কুট বিতরণের জন্য বিদ্যালয়টি নির্বাচিত হয়।