ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ শুরু ট্রাম্পের ঘোষণায়

Palestinian.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩১ ফিলিস্তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ চলাকালে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-ধর্মঘট করেছে। তাদের ঠেকাতে শত শত অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল।
বিক্ষোভকারীদের গাড়ির টায়ার জ্বালানো এবং পাথর ছুড়ে মারার জবাবে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়াসহ তাজা গুলিবর্ষণও করেছে।
গাজা থেকে ইসরায়েলে দুটো রকেটও ফিলিস্তিনরা ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
রয়টার্স বার্তা সংস্থা জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের সীমান্ত বেষ্টনী এলাকায় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। জবাবে তাদের ওপর গুলি ছুড়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
জেরুজালেমসহ বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও অন্যান্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে ৪৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।
ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের দল হামাস এরই মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ইন্তিফাদা শুরুর ডাক দিয়েছে।
হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করার জন্য ফিলিস্তিনি, মুসলিম এবং আরবদেরকে আহ্বান জানিয়ে দিনটিকে ‘ক্ষোভ দিবস’ বলে অভিহিত করেছেন।
গাজায় এক ভাষণে বৃহস্পতিবার হানিয়া বলেন, “দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ ডিসেম্বরই ফিলিস্তিনি ইনতিফাদার (গণঅভ্যুত্থান) প্রথম দিন হোক।” ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ‘শান্তি প্রক্রিয়ার মৃত্যু ঘটেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশও ট্রাম্পের পদক্ষেপের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ওদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আরব লিগও এর জবাবে তাদের করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আগামী দিনগুলোতে বৈঠকে বসবে।
ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলালেন?
ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো নীতি উল্টে দিয়েছে।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এখনই সময় বলে তিনি মনস্থির করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি অন্বেষণের বিষয়টি মাথায় রেখে এ পদক্ষেপটি বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছেন বলে জানান ট্রাম্প। এটি বাস্তবতাকেই মেনে নেওয়া বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন।
বিবিসি বলছে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ইহুদিদের সমর্থন পেতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জিতলে তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা রাসহ তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন।
বিশ্ববাসীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হলেও এখন তিনি মূলত সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করছেন।
তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
তবে তিনি এও বলেছেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধান চাইলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় থাকবে।