টেকনাফের নাজির পাড়া থেকে সাবরাং নোয়াপাড়া পর্যন্ত নাফ নদী দিয়ে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য

yaba_tt-3456789.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ সদর নাজির পাড়া এবং সাবরাং ইউনিয়নের আলোগুলা মৎস্য প্রজেকট থেকে নয়াপাড়া হারিয়াখালী পূর্বে ৪নং ও ৫নং স্লসগেট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার নাফ নদীর প্যারাবন উপকূলীয় সীমান্তে নোম্যানন্স লেন্ডে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। এক কিঃ মিটার নাফ নদীর উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধ ভগ্নদশা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রত্যান্ত এলাকা হিসাবে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকাতে এ অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাকে একটি নিরাপদ স্থান হিসাবে বেঁচে নিয়েছে। সীমান্ত রক্ষী এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা যোগাযোগ সমস্যা ও প্রত্যান্ত সীমান্ত এলাকা হিসাবে একে পুঁজি করে ওরা ইয়াবা ও স্বর্ণের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর সে দেশের সেনাবাহিনী নির্যাতন ও নিপীড়ন অব্যাহত রাখায় দলে দলে রোহিঙ্গা এ পাড়ে রোহিঙ্গাদের আগমনের ভারে নাফ নদীর উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধ প্রায় ভেঙ্গে যায়। ফলে বেড়ীবাঁধ যোগাযোগ সমস্যা অচল হয়ে পড়ে। এ কারণে সীমান্ত রক্ষী দায়িত্ব পালনে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। রোহিঙ্গা আগমনের পাশাপাশি সমানতালে বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকে পড়ে। দিনের বেলায় আসে রোহিঙ্গা এবং রাতের বেলায় প্রবেশ করে মরণ ব্যাধী ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। সম্প্রতি সাবরাং সিকদার পাড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিজিবি ও পুলিশের হাতে জব্দ হচ্ছে ইয়াবার চালান। কিন্তু আটক হচ্ছেনা এর সাথে জড়িতরা। এরা থেকেই যাচ্ছে পর্দার অন্তরালে। শুধুমাত্র ঐসব ইয়াবা মামলায় পলাতক আসামী হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এসব মামলা ওরা আইনের ফাঁকফোকর এবং চার্জশীট থেকে রহস্যজনক কারণে বের হয়ে যাচ্ছে। ফের ওরা জড়িত হয়ে পড়ছে, ইয়াবা নামক কালো ব্যবসায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া, সাবরাং আলোগুলা মৎস্য খামার নয়াপাড়া ৪নং ও ৫নং স্লুসগেট দীর্ঘ নাফ নদীর উপকূলীয় সীমান্ত এলাকা বর্তমানে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। রাতের বেলায় ইয়াবা ব্যবাসায়ীরা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান শিকারে ব্যস্ত থাকে। গভীর রাত হলেই নাফ নদীর উপকূলীয় প্যারাবন এলাকায় চলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আধিপত্য। একটি সূত্র জানায়, নাফ নদীতে রীতিমতো সংশ্লিষ্টদের জলযান তৎপরতা এবং চোরাচালান অভিযান কার্য্যক্রম ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়ার কারণে মিয়ানমার থেকে বানের ¯্রােতের ন্যায় বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকছে। অপরদিকে স্থল আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে একই অবস্থা। এ সুযোগকে পূঁজি করে ওরা ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের স্বরামন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক/ইয়াবা শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং নব্য ব্যবসায়ীরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান কার্যক্রম না থাকায় ওরা স্ব স্ব এলাকায় ফের ইয়াবা ও স্বর্ণ ব্যবসা ও পাচার কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। এসব ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ওরা অভিনব পন্থায় পাচার করে দিচ্ছে। সূত্র মতে দুরাপাল্লার বাস, ট্রাক, নোহা মাইক্রোতে আলেদা যোগান তৈরী করে অভিনব কৌশলে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ও সাবরাং, টেকনাফ সদর, পৌর এলাকা ও হ্নীলায় বেঙের ছাতাড় ন্যায় ইয়াবার ডিলার গজে উঠেছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ও পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছে ইয়াবার খুচরা ব্যবসায়ী। সহজভাবে ইয়াবা সেবন করে যুব সমাজ বিপদগামী হচ্ছে এবং ইয়াবা আশক্ত পুত্রের অত্যাচারে পিতা মাতা আক্রান্ত হচ্ছে রীতিমতো। অবাধ্য সন্তানদের বাধ্য হয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছে, ভূক্তযোগী অভিভাবকেরা। সমপ্রতি আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ইয়াবা রোধে এবং খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত গ্রহিত হয়। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আটক করা নিতান্ত প্রয়োজন। কেননা, এরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ইয়াবা ব্যবসাকে বহাল রেখেছে।