টেকনাফে পিএসসি পরীক্ষার ১ম দিনেই অনুপস্থিত ৩৯৪ শিক্ষার্থী

23722049_2025668364381520_700177193_n.jpg

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ |
সারা দেশের ন্যায় টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে অংশ গ্রহন করেছে সর্বমোট ১০৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩২টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬২টি, বেসরকারী ৬টি, কেজী স্কুল ২০টি, উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন ১টি, ব্রাক এনজিও সংস্থার স্কুল ১৬টি, মাদ্রাসা সংলগ্ন ইবতেদায়ী ৩০টি, ইবতেদায়ী নুরানী প্রতিষ্টান ২টি। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫৬৩১জন, কেন্দ্র সংখ্যা ১১টি।
১৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় এই সমস্ত পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১ম দিনের সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে শিক্ষার মান থেকে বার বার পিছিয়ে পড়া টেকনাফ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর লেখাপড়ার মান নিয়ে আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। কারন ৫৬৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তথ্য সুত্রে জানা যায়,টেকনাফ উপজেলায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১ম দিনেই অনুপস্থিত ৩৯৪জন শিক্ষার্থী।।
প্রাথমিকে ২০৬ জন, ইবতেদায়ীতে ১৮৮ জন, এর মধ্যে প্রাথমিকে ১০৬ জন ছাত্র, ১০০ জন ছাত্রী। তাছাড়া ইবতেদায়ীতে ৯২ জন ছাত্র এবং ৯৬জন ছাত্রী সর্বমোট ১৮৮ জন অনুপস্থিত ছিল।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়ন লেংগুরবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টেকনাফ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত সংখ্যা সব চেয়ে বেশী। লেংগুরবিল শিক্ষা প্রতিষ্টানের ৫১জন, মডেল প্রাইমারীর ৩২জন, সাবরাং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮জন, হোয়াইক্যং নয়াবাজার স্কুলের ২২জন, হোয়াইক্যং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪জনসহ ৩৯৪জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেনি।
এদিকে টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার মানের অবনতি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর পাঠদান নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সমাপনী পরীক্ষার শুরুর ১ম দিনে ৩৯৪জন শিক্ষার্থীর গনহারে অনুপস্থিত নিয়ে চারিদিকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছে অত্র বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সংকট এবং ভাল ভাবে পাঠদান হচ্ছে না, আবার অনেকই বলছে অভিবাবকদের দায়িত্ব, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি অবহেলা এবং স্কুল পড়ুয়া সন্তানের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে দিনের পর দিন দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। এতে কমে যাচ্ছে শিক্ষার মান। তার দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন,বেশী টাকার লোভে পড়ে কম বয়সী স্কুল পড়ুয়া ছেলেরা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
আবার বেশীর ভাগ অভিবাবক লেখাপড়া না শিখিয়ে কম বয়সী মেয়েদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিচ্ছে। এতে দিনের পর দিন শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার দায়িত্বরত শিক্ষা অফিসার এমদাদ হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই উপজেলার শিক্ষার হার বাড়াতে হলে সর্ব প্রথম অভিবাবকদের আরো বেশী সচেতন হতে হবে। তা না হলে আগামী প্রজন্ম লেখাপড়া থেকে আরো পিছিয়ে পড়বে।
তিনি আরো বলেন প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়ন ও মান বাড়াতে আমরা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
পাশাপাশি সচেতন অভিবাবকরা যদি আমাদের সহযোগীতা হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্টানে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিত এবং ঠিকমত পাঠদান হচ্ছে না সেই সমস্ত বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক-শিক্ষীকাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।