লামা পৌর শহরে প্রবেশের বিকল্প সড়ক নির্মানের দাবী

lama-town-pic.jpg

লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা :
লামা পৌর শহরে প্রবেশের বিকল্প সড়ক নির্মাণ জরুরী। জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি, ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্র প্রসারের ফলে দিন দিন শহরে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যৎ সুন্দর শহর করতে এখনই মাষ্টার প্লান করে এতদসংক্রান্ত প্রকল্প হাতে নেয়া উচিৎ। যে হারে জনবসতি গড়ে উঠছে; বিলম্বে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। শহর অভ্যান্তরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা; দু’টো জগাখিচুড়ি অবস্থা হওয়ায় পরিবেশগত সমস্যা বিরাজ করছে। বাজার ফান্ড প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন করার দাবী উঠেছে।
দু:খিয়া-সুখিয়া পাহাড় তলদেশে মাতামুহুরী নদীর কোলঘেসে উনবিংশ শতাব্দির শুরুতে এই ছোট্ট লামা শহরটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৬০ সাল থেকে এখানে জন সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ৭০’র দশক থেকে জনসংখ্যা ক্রমবৃদ্ধি পেয়ে ৯০ দশকে কয়েগুন বেড়ে যায়। এর ফলে বাজার সম্প্রসারণ হয়ে যত্রতত্র আবাসিক এলাকা গড়ে উঠে। ২০০১ সালে ঘোষিত হয় পৌরসভা। এর ফলে হঠাৎ করে আবাসিক ও বানিজ্যিক স্থাপনা বাড়তে থাকে। একই সাথে ভূমির মূল্যও বৃদ্ধি পায় কয়েকগুণ।
৮০’র দশকে এই শহরটি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। এর আগে মাতামুহুরী নদীই ছিল এমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। ২০০০ সাল থেকে লামা সোয়ালক সড়ক নির্মান হয়ে, বান্দরবান জেলা সদর ও চট্টগ্রাম-লোহাগাড়ার সাথে সংযোগ স্থাপন হয়। মূল সড়কটি শহরের মধ্যেদিয়ে সোয়ালক সড়কের সাথে সংযোজিত হয়। এর ফলে পুরাতন চিন্তাধারায় গড়ে উঠা শহরে বড় একটি বাস-ট্রাক প্রবেশ করলে বিশেষ করে (টার্নিং) মোড়ে গা-সারানোর উপায় থাকেনা। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের পথ হিসেবে একটি বিকল্প সড়কের দাবী উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে নির্মাধিন পৌর বাসটার্মিনাল থেকে টি এন্ডটি পাহাড়ের পাশ দিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের পেছন হয়ে পোষ্ট অফিস সড়কের সাথে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে; শহরে একটি বিকল্প প্রবেশদ্বার হয়ে, জানযটমুক্ত হবে।
অপরদিকে কোন মাষ্টার প্লান ব্যাতিত শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠে পাকা অবকাঠামো। অনেকটা মালিকদের মনগড়া পরিকল্পনায় নতুন নতুন মার্কেট তৈরি হয় শহর অভ্যান্তরে। দু’একটি ব্যাতিত মার্কেট গুলোতে শৌচাগার, গাড়ি পার্কিং-এর কোন ব্যাবস্থা রাখা হয়নি। ফলে এসব জরুরী প্রয়োজন মেটাতে ব্যবসায়িরাসহ আগন্তুকদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।
শহর অভ্যান্তরে অ-পরিকল্পিত আবাসিক ভবনগুলোর বাথরুম, সেপটি ট্যাংকির ময়লা পানি প্রধান সড়কের উপর এসে সাধারণ মানুষের পায়ে-গায়ে মিলে মিশে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ এসব অনিয়ম বন্ধের লাগাতার তাগাদা দিলেও, কে শুণে কার কথা। বিষয়টি সবাই দেখেও না দেখার ভান করে আছে।
বর্তমানে পৌর শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও শহরকে পরিবেশ সম্মত আধুনিকায়ন করতে বান্দরবান বাজার ফান্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথ উদ্যাগ নেতে হবে। লামা শহরে প্রবেশের বিকল্প রাস্তা তৈরি ও পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দঁন শহর গড়তে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।