চকরিয়ায় ১২মামলার আসামি আইনজীবি সহকারি হেলালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

Ovijog_1.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :
চকরিয়ায় আদালতের স্ব-প্রণোদিত মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে যাওয়া আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপর্কমের অনেক অভিযোগ উৎঘাটন হতে শুরু করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে নানা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে থানা ও আদালতে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। এত পরিমাণ মামলায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কিভাবে আইনজীবি সহকারি হিসেবে আদালতের মতো একটি গুরুত্বপুর্ণ স্থানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ উঠেছে, দুটি হত্যা মামলা পরিচালনা এবং ওই দুটি মামলার অভিযুক্ত আসামিদের জামিন বাতিল করার অজুহাত দেখিয়ে আদালতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলে বাদির কাছ থেকে দফায় দফায় তিনলাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন। এ ঘটনায় মামলার বাদি চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা গ্রামের জহির আহমদের মেয়ে মুর্শিদা বেগম গত ১৭ আগষ্ট কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগটিতে মুর্শিদা বেগম জানান, ২০১৪ সালে তাঁর ছোটভাই খোরশেদ আলম ও ২০১৬ সালে অপর ছোটভাই মোরশেদ আলমকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। দুটি ঘটনায় মামলাও হয়েছে। বাদি লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, মামলা রুজু হওয়ার পরপর আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন মামলা গুলো পরিচালনা করবে এবং অভিযুক্ত আসামিদের জামিন বাতিলসহ বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা করবেন এমন আশ^াসে দফায় দফায় নগদ ও বিকালে তিনলাখ টাকা হাতিয়ে নেয় হেলাল উদ্দিন। টাকা নেয়ার পর উল্টো মামলার আসামিদেরকে জামিন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন হেলাল উদ্দিন। পরে দেয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন লিখিত অভিযোগে এ ধরণের অভিযোগ করেন হত্যা মামলার বাদি মুর্শিদা বেগম।
অপরদিকে আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন (কার্ড নং ৬১০) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কর্মরত থাকাকালে বাদি ও বিবাদিপক্ষকে মামলায় নানাভাবে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা দেয়ার পরও মামলায় সুফল না পেয়ে বিচারপ্রার্থী অনেকে তাঁর ওপর ক্ষুদ্ধ হন। আবার অনেকে কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তাঁর হাতে উল্টো মারধর ও লাঞ্চনার শিকান হন।
এসব ঘটনায় আইনী প্রতিকার চেয়ে আইনজীব সহকারি হেলাল উদ্দিনকে বিবাদি করে ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলার ভুক্তভোগী ১১০জন নারী-পুরুষ লিখিত অভিযোগ করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ এর কাছে।
সর্বশেষ চলতিবছরের আগস্ট মাসে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আবছার নামের এক নিরীহ ব্যক্তি উপজেলা আদালতে একটি মামলায় স্বাক্ষ্য দিতে আসলে আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন তাকে আটক করে। পরে তাকে একটি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় আদালত মামলাটি তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
পুলিশের প্রতিবেদনে ভিকটিম নুরুল আবছারকে হয়রানিমুলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আদালতের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানীকালে আদালতের বিচারক ভিকটিম নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে একই সাথে আদালতের বিচারক স্ব-প্রণোদিত হয়ে ঘটনায় জড়িত চার আইনজীবি সহকারি বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত আইনজীবি সহকারিরা হলেন মো.আবদুল কালাম (কার্ড নং ৫৬৮), মোহাম্মদ ইসমাইল (কার্ড নং ৫৯১), বখতিয়ার উদ্দিন মো.হেলাল উদ্দিন (কার্ড নং ৬১০) ও মৌলানা মোজাদ্দীদুল ইসলাম (কার্ড নং ৪৬৩)। তাদের মধ্যে আইনজীবি সহকারি মোহাম্মদ ইসমাইলকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানা পুলিশ উপজেলা সড়কের গ্রামীন ব্যাংক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অপরদিকে গত ২৬ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানালে মামলার অপর আসামি হেলাল উদ্দিনকে জেলহাজতে পাঠনোর নির্দেশ দেন আদালত। আইনজীবি সহকারি হেলাল উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের কাহারিয়া খামার এলাকার মৌলভীর নুরুল আলমের ছেলে।