১৭ লাখ টাকা সহ আটক ৭ ডিবি সদস্যকে কারাগারে প্রেরণ, টেকনাফ থানায় মামলা : পালিয়ে যাওয়া মনিরুজ্জামান ধরা দিয়েছে পুলিশের হাতে

DB_followup.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ |
টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়ের ঘটনায় মুক্তিপনের ১৭ লাখ টাকা সহ আটক কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৭ সদস্যকে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। অপহৃত ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বাদী হয়ে বুধবার রাতে টেকনাফ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। থানার মামলা নং-৩৮, জিআর ৭৮৯/১৭ । দায়ের করা মামলাটির ধারা ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ দ:বি। এতে ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে আসামী করা হয়েছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বাদী হয়ে বুধবার রাতে উক্ত মামলাটি দায়ের করেন। এতে ৭ ডিবি সদস্যের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আটক রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার ১৭ লাখ টাকা মামলার আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে।

অপরদিকে আটক ৭ ডিবি সদস্যকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

ডিবি পুলিশের উক্ত সদস্যরা হলেন, এসআই আবুল কালাম আজাদ, এস আই মোঃ মনিরুজ্জামান, এএসআই মোঃ আলাউদ্দিন, এ এসআই মোঃ ফিরুজ, এএসআই মোস্তাফা কামাল, কনস্টেবল মোস্তফা আজম ও মোঃ আল আমিন।

৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি টেকনাফে : কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার তদন্ত টীমের সদস্যরা এ সংক্রান্ত বিষয়ে টেকনাফে আসেন। তিনি জানান ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য গত ২৪ আগষ্ট কক্সবাজার হোটেল আল গণির সম্মুখ হতে টেকনাফ পৌর সভা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে অপরহরণ করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এই ব্যবসয়ীকে কলাতলী এলাকায় একটি গোপন স্থানে আটকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা দাবী করেন। পরে ১৭ লাখ টাকা দফারফা হওয়ার পর। অপহৃতকে নিয়ে টেকনাফে এসে মুক্তিপনের টাকা নিয়ে অপহৃতকে ছেড়ে দেন। টাকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সেনা চেকপোষ্টে ১৭ লাখ টাকাসহ আটক হন ৬ ডিবি সদস্য। এসময় ডিবির এসআই কামরুজ্জামান অসুস্থ্যতার ভান করে পালিয়ে গেলেও পরে তিনিও পুলিশের কাছে ধরা দেন।