শাহপরীরদ্বীপে দালাল শাকের বাহিনীর হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত

Teknaf-pic-23.10.2017.jpg

বিশেষ প্রতিনিধি, টেকনাফ :
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং পরিবেশ দুষনের বাঁধা প্রদান করতে গিয়ে প্রতিবেশী এক ক্ষুধে পরিবার রোহিঙ্গা প্রেমিক শীর্ষ মানব পাচারকারী দালাল শাকের বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন। গত ২৩ অক্টোবর রাত ৭ টায় শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়ায় এঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এর রমরমা বাণিজ্য চলছে। এখানে যে ক’জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী দালাল ও মাঝি রয়েছে তার মধ্যে মৃত সোলতান আহমদের পুত্র শাকের আহমদ তার মধ্যে একজন শীর্ষ পর্যায়ের দালাল। তার নেতৃত্বে বেশীর ভাগ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ চলমান রয়েছে। শাকের আহমদের আট ভাইসহ ১৫ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী সিন্ডিকেট এ ঘটনা করে এবং রোহিঙ্গা পারাপারের নামে বাণিজ্য করে অডেল অর্থের মালিক বনে গেছেন। এ শাকের বাহিনীর সিন্ডিকেট অভিযোগ রয়েছে এ বাহিনীর অত্যচারে নির্যাতনে অনুপ্রবেশ কালে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার নিঃস্বসহ হয়ে হালি হাতে প্রবেশ করে। এমনকি পারাপারের ধার্য্যকৃত অর্থ দিতে না পারলে রোহিঙ্গা পরিবারের কর্তাকে জালিয়াপাড়ায় অন্তরীন রেখে টর্শার শেলে আটক রাখতো এবং পরে বার্মার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দিত। নির্দয় নির্মম এ শাকের বাহিনীরা রোহিঙ্গা পারাপারের সময় নাফ নদী ও সাগরের জিরোপয়েন্টে বিভিন্ন ভয়ভীতি এবং প্রশাসনের নাম ভাংগিয়ে তাদের সাথে থাকা স্বর্ণ ও নগদ অর্থ জমা রাখার নামে আতœসাৎ করতো। ঘটনার আক্রান্তের শিকার প্রতিবন্দী মোঃ রফিক এ প্রতিবেদককে জানায়, শাকের আহমদ আমার প্রতিবেশী, সে প্রায় সময় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তাদেরকে আমার বাড়ী এবং সীমানার পাশে রাখতো। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পাশবিক অত্যচার এবং পরিবেশ বিধ্বংসীর বিরুদ্ধে প্রায় সময় বাঁধা প্রধান করতো এ প্রতিবন্দী মোঃ রফিক। শেষ পর্যন্ত সে অতিষ্ঠ হয়ে এর প্রতিবাদ করলে শাকেরের নির্দেশে এবং এ বাহিনীর হাশিম, লুবাইয়া ও বার্মাইয়া ছিদ্দিক সহ ৮/৯ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ৪ জন আহত হয়। আহতরা হচ্ছেন একই পরিবারের রফিকের মেয়ে আনার কলি (১৭), মোঃ বোরহান (৮), স্ত্রী নেছার বেগম (২৬) ও পিতা মোঃ রফিক (৩০)। তারা বর্তমানে টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে আনার কলির অবস্থা গুরুতর। এদিকে আহত গৃহকর্তা মোঃ রফিক সংবাদ কর্মীর কাছে অভিযোগ করেন, গুরুতর আহত আমার মেয়ে আনার কলিকে হাসপাতালে ভর্তি না করে প্রতি পক্ষের সামান্য জখম হওয়া এক মহিলাকে বাণিজ্যের মাধ্যমে ভর্তি করে। যাতে আমি মামলা করতে না পারি। এব্যাপারে মোঃ রফিক বাদী হয়ে শাকের আহমদকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একটি অভিযোগ দায়েল করেন।