উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের পদভারে বেড়ীবাঁধ ক্ষতবিক্ষত : ঝুঁকিতে উপকূলবাসী

bery-bad.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে সীমান্তের পাশ্ববর্তীদেশ মিয়ানমার রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে সন্ত্রাসীদের দমন নিপীড়নের নামে রাখাইন সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড (বিজিপি) পুলিশ এবং উগ্রবাদী রাখাইনদের সমন্নয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর দমন, নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, বাড়ীঘর জ্বালাওপোড়া ও গোম অব্যাহত রেখেছে। এ চলমান নাজুক পরিস্থিতিতে নির্যাতিত মাতৃভূমির মায়ামমতা পরিত্যাগ করে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসছে, লাখ লাখ রোহিঙ্গারা। আরাকানের দক্ষিণ মংডু থানার নাইক্ষংদ্বীয়া থেকে উত্তর আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নাফ-নদী পাড়ি দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে। ২৪ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এখনো চলমান রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার চলমান রিপোট অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৯ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এখন বিভিন্ন ক্যাম্পে শরনার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। এ দুই উপজেলা উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্য থেকে বিশাল রোহিঙ্গা নাফ নদী পারাপার কালে নাফ নদী উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধ ও সবুজ বনের ব্যাপকভাবে ক্ষতিসাধিত হয়। যে সব পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের ¯্রােত অনুপ্রবেশ ঘটেছে, সে সব পয়েন্টের বেড়ীবাঁধ ও সবুজ বন বেশীভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা শিগ্রি মেরামত না করলে নাফ নদীর উপকূলীয় নি¤œাঞ্চল এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হবে। এমন আশংখা অনেকের। এতে চলতি মওসূমে লবণ, চিংড়ি ও ব্যুরো চাষ থেকে বঞ্চিত হবে চাষীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার বিস্তাীর্ণ নাফ নদীর উপকূল রক্ষাকারী বেড়ী বাঁধের বিভিন্ন পোল্ডারের ২০ পয়েন্টে রোহিঙ্গার বহরে পদবারে ভারে ৫৫ কিঃ মিটার বেড়ীবাঁধে ক্ষতবিক্ষত হয়। ক্ষতবিক্ষত বেড়ীবাঁধ এলাকাগুলো হচ্ছে, শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিন পাড়া, ঘোলার পাড়া, জালিয়া পাড়া, সাবরাং ৪নং স্লুইস গেইট, নয়াপাড়াঘাট, আলোগুলা চিংড়ী প্রজেক্ট, টেকনাফ সদরের নাজির পাড়া, মৌলভীপাড়া, টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, হ্নীলা আলীখালী, চৌধুরীপাড়া, ওয়াব্রাং, হোয়াইক্যং এর কাঞ্জার পাড়া, উনচিপ্রাং, উলুবনিয়া ও উখিয়া পালংখালী, থাইনখালী রহমতের বিল ও বালূখালী। উল্লেখ গত ১৯ অক্টোবর সাবরাং হারিয়াখালীতে শাহপরীরদ্বীপ বিধস্থ বেড়ীবাঁধ পূণঃ নিমার্ণ কাজের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করার কারণে উখিয়া উখিয়া টেকনাফের উপকূল রক্ষাকারী প্রায় অংশের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এ কারণে সীমান্ত পাহারাদার বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোয়ানেরা চোরাচালান দমনে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) টেকনাফ দায়িত্বে নিয়োজিত উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, উখিয়া-টেকনাফের ১৫টি বেড়িবাঁধ স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিপূর্বে অবগত করা হয়েছে।