রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্যক্রম এক মাসে শেষ হবে

ukhia_61172_1508511388.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
মিয়ানমারে গণহত্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দুই লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা তথ্যভাণ্ডারের কাজ সম্পন্ন হবে।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান এ তথ্য জানান।

পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ছয়টি কেন্দ্রে ১০০ বুথে দৈনিক নিবন্ধন হচ্ছে ১২-১৩ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বুথের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

সচেতন রোহিঙ্গারা বুঝলেও অনেকেই ত্রাণের আশায় তালিকায় নাম লেখাতে নিবন্ধন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন বলে তিনি জানান।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রেজিস্ট্রেশন সেন্টারগুলোতে রোহিঙ্গাদের ভিড় বেড়েছে। বেড়েছে রেজিস্ট্রেশনের গতি। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভিড় ঠেলে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে সংগ্রহ করছেন ছবিযুক্ত কার্ড। সচেতন রোহিঙ্গারা এ কার্ড সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখলেও অধিকাংশই ভিড় করছেন কেবল ত্রাণের আশায়।

মেজর জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ছবিযুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সঠিক পরিসংখ্যান রাখা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকরণ কার্ড তৈরিতে রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা যাবে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাসপোর্ট অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, রোহিঙ্গা তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ তদারকি করতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৬টি রোহিঙ্গা নিবন্ধন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান।

এ সময় তিনি বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বিষয়ে রোহিঙ্গা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং খোঁজখবর নেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আরও বুথ বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।