রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের টিউবওয়েল,ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম

FB_IMG_1506337794559.jpg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া:মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এডাতে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কর্মসুচী বাস্তবায়নে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আর্ন্তজাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে এ কর্মসুচী বাস্তবায়নে ফটোসেশনের মাধ্যমে লোক দেখানো টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনের নামে বেশ কয়েকটি এনজিও সংস্থা লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও পুর্নবাসন কাজে দায়িত্ব নিয়োজিত সেনাবাহিনী ইতি মধ্যে ব্র্যাক এনজিওকে সর্তক করে দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাযায়। এমন কি খোদ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সোহরাব হোসেন ব্র্যাক কতৃক টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন নিয়ে চরম আপত্তি তুলেছেন।
জানাযায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন, অত্যাচার, ধর্ষন, হত্যা ও বাড়ী ঘরের অগ্নিসংযোগ এবং নানামুখী হুমকির শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়। তাদেরকে মানবিক সহায়তা দিতে দেশী-বিদেশী এনজিওরা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে।
খোজ খবর নিয়ে জানাযায়, ব্র্যাক ইতি মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ হাজার ৩৬৬ টি ল্যাট্রিন ও ১ হাজার ৪০টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। সচেতন নাগরিক সমাজ অভিযোগ করে বলেন ব্র্যাক কতৃক ২টি রিং দিয়ে ল্যাট্রিন স্থাপন নিরাপদ নয়। এ ছাড়াও ৩০/৪০ ফুট গভীরের টিউবওয়েল স্থাপন করলেও অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি আসে না। এ প্রসংগে জানতে চাইলে ওয়াশের উখিয়া উপজেলা ম্যানেজার ফারহান জানান, প্রতিটি ল্যাট্রিনে ব্যয় হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর টিউবওয়েলে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। জরুরী মুহত্তে সংস্থার নিয়ম অনুসারে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৗশলী মো: সোহরাব হোসেন উখিয়া নিউজ ডটকমকে বলেন, ব্র্যাক সংস্থা যেসব টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন করেছেন তা ভয়ানক অনিরাপদ। দুই রিংয়ের ল্যাট্রিন খুবই বিপদ জনক। আর ল্যাট্রিনের ৫/১০ ফুটের মধ্যে ৩০/৪০ ফুটের টিউবওয়েল স্থাপন স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর। তিনি এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, পাশাপাশি ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন করলে ল্যাট্রিনের জমানো মল থেকে ফিকেল কলিফরম নামক এক প্রকার জীবাণু পানির সাথে সংমিশ্রনের আশংকা থাকে। ফলে ওই সব টিউবওয়েলের পানি পান করলে মারাতœক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
দায়িত্বশীল সুত্রে জানাযায়, আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, গ্লোবাল ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্র্যাক এ কর্মসুচী বাস্থবায়ন করলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে অদক্ষ টিকাদারের সাথে অনৈতিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লোক দেখানো এসব প্রকল্প সরজমিন তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে এমন দাবী সুশীল সমাজের। এদিকে উপজেলা ম্যানেজার ফারহান বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সত্যতা স্বীকার করলেও ব্র্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি অজিত কুমার নন্দী তা অস্বীকার করে কর্মসূচী চালু রয়েছে বলে জানান। এনিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।