নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের নোমেস ল্যান্ডে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা

FB_IMG_1505870636762.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি:মগ সেনাদের অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে জীবন বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে আর্ন্তজাতিক সীমা রেখায় আশ্রয়ে নিয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমধূমের তুমব্রু, চাকঢালার বড় চনখোলা, আশারতলীর সাপমারা ঝিরি ও ফুলতলী নোমেস ল্যান্ডে (জিরো পয়েন্ট) অবস্থান নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের দিন কাটছে আতংক আর ভয় ভীতিতে। আজ তাদের দেশ ও বাড়ী ঘর এবং জীবনের মূল্য বলতে কিছুই নেই। নোমেস ল্যান্ডে (শূণ্য রেখায়) এসেও রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে রোহিঙ্গা যুবকদের।প্রত্যেক রাষ্ট্র আর্ন্তজাতিক আইন শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে চলতে দায়বদ্ধ হলেও মিয়ানমারের ক্ষেত্রে ভিন্ন। নোমেস ল্যন্ডে (শূণ্যরেখায়) সেনাবাহিনীর টহল থেকে শুরু করে স্থল মাইন স্থাপন আর বিনা উষ্কানিতে অসংখ্য বার গুলি ছুড়ে অনেক আগেই আইন লঙ্গন করেছে মিয়ানমার। ফলে আশ্রিত রোহিঙ্গারা আর্ন্তজাতিক শূণ্য রেখায় এসেও নির্ঘুম রাত্রিযাপন করছে।
নোমেস ল্যান্ডে(জিরো পয়েন্ট) রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী তিনটি ক্যাম্প ঘুরে জানা গেছে,২৪আগষ্ট মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর শুরু হওয়া খুন, অত্যাচার, নির্যাতন ও নৃশংসতা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসেও বিরাজ করছে। প্রাণ রক্ষায় আর্ন্তজাতিক শূণ্য রেখায় আশ্রয় নিতে এসেও অজানা আতঙ্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাম্যনখালী ও সাব বাজার এর বাসিন্দা বদিউল আলম, নুরুল আমিনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, মিয়ানমারে সহায় সম্পত্তি সব ছিল তাদের। প্লাষ্টিক ছাউনীর নিচে রাখা ফার্নিসার, পড়নের কাপড় মানুষগুলোর বিত্তবৈভবের সঙ্গে রুচিশীলতারও জানান দিচ্ছিল। তারা জানান, মগ সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে জিরো পয়েন্টে এসেছেন। কিন্তু কখন কি ঘটছে এমন চিন্তায় চোখে ঘুম আসেনা তাদের। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নুরুল আমিন।
রোহিঙ্গা নাগরিক মৌলভী আইয়ুব, মো. আলম ও ছৈয়দ নুর জানান, দুই দেশের মধ্যবর্তী তুমব্রু রাইট সীমা রেখায় ৬৩১৮ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। কাটা তার ঘেষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি নিয়মিত টহল দেয়। সেক্ষেত্রে নদীর ওপারে (তুমব্রু কোণারপাড়া) অংশে থাকা বিজিবির কিছু করার থাকেনা। যার কারনে ওই রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্য থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ৬টি টিম শূণ্য রেখা পাহারা দেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল জানান, আমাদের সীমান্তের নোমেস ল্যান্ডে অবস্থানরত যে রোহিঙ্গারা আশ্রয়স্থলে রয়েছে তারা মগ সেনারে আতংকে রাত জেগে রোহিঙ্গা যুবকেরা পাহাড়া দিচ্ছে বলে শুনেছি। তবে আমাদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এসব বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদেরকে মেসেজ দেওয়া আছে। এ বিষয়ে স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, সীমান্তের নোমেস ল্যান্ডের কাটাঁ তারের বেড়ার লাগোয়া মগ সেনাদের দেখে রোহিঙ্গারা আতংকে দিন যাপন করছে। মানবিক দৃষ্টিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এদের মধ্যে যুবকদেরকে মাঝি বন্টন করে তাদের নেতৃত্বে ৩০জন করে পাহাড়া দেওয়ার কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের আইন শৃঙ্খলা বহিনীও সর্তক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে সীমান্তে কর্মরত বিজিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি কয়েকটি বিষয়ে আইন লঙ্গন করেছে তা ঠিক। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রকে অবহিত করেছেন। অপরদিকে বিজিবি সদস্যরাও সীমান্ত পাহারায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২৪ আগষ্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিজিবি আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা জাতির উপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে। পরদিন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা আর্ন্তজাতিক সীমা রেখায় ঢুকে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ অংশে বিজিবি তাদের পাহারা দিলেও মিয়ানমারের ওপার থেকে প্রতিনিয়ত তাদের নানা কায়দায় নির্যাতন করে যাচ্ছে।