শিশু সহ ৩৩ রোহিঙ্গার এইচআইভি পজেটিভ !

download-1.jpg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া::
মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে এইচআইভি পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে দিন দিন এইডস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের।
গতকাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত এইডস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন নারী, ১০ পুরুষ এবং ৫ জন শিশুও রয়েছে। এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হলেও বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছে জানিয়েছেন আশা’র আলো সংস্থার দায়িত্বরত কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা: মো: শাহীন আবদুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া রোগীদের পুনরায় পরীক্ষা করে কনফার্ম করে সরকারি ভাবে ফ্রিতে চিকিৎসা সেবা এবং কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে এইসআইভি শনাক্ত করার জন্য উখিয়া এবং টেকনাফে দুটি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। জন্ম নিয়েছে ৬৫৩ জন শিশু। পাওয়া গেছে ৮ জন ম্যালেরিয়া রোগী। ৬ লাখ ৭৯ হাজার লোককে কলেরার ভেকসিন খাওয়ানো হয়েছে। ১৬ হাজার ৮৩৩ জন এতিম শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, এভাবে এইডস রোগী পাওয়া আমাদের জন্য অতি উদ্বেগের বিষয়। তবে একসাথে খাবার খাওয়া, ঘুমানো বা স্বাভাবিক মেলামেশায় এইডস ছড়ায় না। শুধুমাত্র শারিরীক মিলন ও আক্রান্ত রোগীর রক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। তাই রোহিঙ্গা নারীদের ব্যবহারে সতর্ক হতে অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে শঙ্কা অনেকাংশে কমে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও রোগ প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা নিয়ে আসছে এইডস সহ মারাত্মক সব সংক্রামক রোগ। ইতোমধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বিভিন্ন ক্যাম্পে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপুষ্টিজনিত কারণে রোহিঙ্গারা সহজেই এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্যই সরকারিভাবে রোহিঙ্গাদের কলেরা টিকা খাওয়ানোর কার্যক্রম চলছে।