রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে অবৈধ সীমের ছড়াছড়ি : বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে

is.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী:উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাাম্পগুলোতে বাংলাদেশের মোবাইল সিমকার্ডের ছড়াছড়ি। এসব সিমকার্ড নামে বেনামে এবং আইডি কার্ড জালিয়তীর মাধ্যমে নিবন্ধন করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এসব সিমকার্ড বিক্রি না করলেও নানা কৌশলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মোবাইল সিমগুলো পৌছে যাচ্ছে। সীমকার্ড ও মোবাইল ব্যবসায়ীরা ছড়ামূল্যে ৪ থেকে ৫শত টাকা করে রোহিঙ্গাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশী সীমকার্ডের পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমকার্ড এক সাথে ব্যবহার করছে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় ৬টি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পগুলোর প্রায় পরিবারের সদস্যরা ক্যাম্পে বাংলাদেশী মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহার করতে দেখা গেছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে রোহিঙ্গা পরিবারের হাতে সোলার প্লেট আনতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গারা বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার প্লেট থেকে মোবাইলে চার্জ নিচ্ছে। বাংলাদেশী মোবাইল সিমকার্ডের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সেদেশের সিমকার্ড দিয়ে নিত্যদিন কথা বলছে এবং আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য ছাড়াও মধ্যপাচ্যে নিয়ে যাবে মর্মে রাখাইন (আরাকান) রাজ্যের রোহিঙ্গাদের এখানে চলে আসার উৎসাহিত করছে। এছাড়া ও রোহিঙ্গা দালালেরা গোপনীয় তথ্য সে দেশের সেনাবাহিনীর কাছে পাচার করে দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা একটি সংগঠিত জাতী। তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে, মোবাইল সিমকার্ড। এজন্য তাদের হাতের নাগালে রাখা হয়েছে, সোলার প্লেট। অভিযোগ উঠেছে একটি জালিয়াতীচক্র আইডি কার্ড ফটোকপি করে মোবাইল ব্যবসায়ীর দোকানে রোহিঙ্গারা অতিরিক্ত দামে সিমকার্ড ক্রয় করে এবং এসব সিমকার্ড থেকে একাদিক রোহিঙ্গা পরিবার কথা বলছে। যার কারণে এ দুই উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটে প্রায় সময়। একটি সূত্রে জানায় মোবাইল সীম ব্যবসায়ীরা একজন গ্রহক একটি সীম ক্রয় করতে গেলে নেটওয়ার্কের বির্পযয় বলে গ্রহকের কাছ থেকে ২/৩ বার পিনগার নিয়ে ২/৩টি সীম একসাথে রেজিষ্ট্রেশন করে এবং পরে একটি ঐ গ্রাহককে দিয়ে অপর ২টি সীম রোহিঙ্গা নাগরিকদেরকে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে। রবি এবং গ্রামীণ সিমকার্ড এভাবে রোহিঙ্গাদের হাতে চলে যাওয়ার ফলে অনেক সময় মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্কের অভাবে গ্রাহকেরা প্রয়োজনে কথা বলতে পারেনা। বাংলাদেশী মোবাইল সিমকার্ড নাগালে পাওয়ায় রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামনে পর্যটন মওসূমে কক্সবাজার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মোটেলে রোহিঙ্গা সুন্দরী রমনীদের অসমাজিক কাজে জড়াতে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পগুলোতে দালালচক্র স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রেক্ষিতে উখিয়া-টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারী, চোরাকারবারী, নারী পাচারকারীরা এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। বাংলাদেশী সিমকার্ড রোহিঙ্গাদের হাতে চলে যাওয়াতে এসব অপকর্ম ও অপরাধ সহজে বিস্তার করবে বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এদিকে গত ৮ই অক্টোবর টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) মোঃ মাঈনউদ্দিন খান এর নির্দেশে এস,আই সাইফুল্লাহ আলী আহমদ মার্কেটে একটি ষ্টোরে অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ সীমসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। আটককৃত ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৬ মাসের সাজা প্রদান করে জেল হাজতে পাটিয়েছে।