রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সিন্ডিকেট

rohinga_camp_rilief_59501_1507013602.jpg

আব্দুল আলীম নোবেল:উখিয়া কুতুপালং ও বালুখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়ংকর যতসব অপরাধ করে চলছে সুবিধাভোগী স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। ওই এলাকার নুরুল আবছার চৌধুরীর,ফজল কাদের ভুট্টু ও আকব্বর আহাম্মদের নেতৃত্বে তাদের তৈরি করা মাঝিদের দিয়ে এই অনিয়ম করছে। প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক মাঝির মাধ্যমে প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের কাছ থেকে তাদের ঝুপড়ি ঘরের জমির মালিকানা বলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। একইভাবে উখিয়া কুতুপালং এলাকায় বখতিয়ার নামে আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে এইসব অপকর্ম দেদারছে চলে আসছে। তারা মাঝিদের ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ত্রাণের মাঝে ভাগ বসাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের চরম অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি কোটিপ্রতি বনে গেছে অনেকে। বিশেষ করে রোহিঙ্গারা যখন তাদের ঘর তৈরি করা শুরু করেছিল তখনি এই সুযোগটি লুফে নিয়েছে তারা। তবে এবার নতুনভাবে যারা আসছে তাদেরকেও এক্ই ফাঁদে পা ফেলতে বাধ্য করছে তারা। এ্ই সিন্ডিকেটের মাঝিদের দিয়ে রোহিঙ্গা পরিবারের কাছ থেকে এখনও টাকা আদায় করছে বিভিন্ন অজুহাতে।
১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন দফায় রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে কুতুপালংয়ে। এবারে কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালীতে রোহিঙ্গারা আশ্রিত হয়েছে। তারা যেসব জমিতে ঘর করেছে এইসব জমি বনবিভাগের এবং কিছু জমি সামাজিক বনায়ণের আওতায় ছিল। রোহিঙ্গাদের ঘর করা জমি গুলো তাদের মালিকনা দাবি করে প্রতিটি ঘর থেকে টাকা আদায় করে চলছে। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের দেখা শুনার পর থেকে প্রকাশ্যে না থাকলেও সুকৌশলে ঠিকই টাকা আদায় করছে তারা।
আগে আসা রোহিঙ্গাদের দেখা শুনার দায়িত্বে ছিল ৩০ জন পুরাতন মাঝি। আর এইসব পুরতন মাঝিরা আরো ৩৫০ জন নতুন মাঝি নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগ পাওয়া নতুন মাঝিদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছে ওই সিন্ডিকেট। তারা আবার বিভিন্ন ব্লকে ভাগ করে রোহিঙ্গাদের দেখা শুনার নামে নিয়মিত টাকা আদায় করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। একজন মাঝি দেখা শুনা করেছে ১০০ থেকে ২০০ পরিবার। এ ব্লকে ২৮ জন,বি ব্লকে ৪২ জন, সি ব্লকে ২৮,ডি ব্লকে ২৬, ই ব্লকে ৩০ জন,এফ ব্লকে ২২জন, জি ব্লকে ৩৫ জন,এইচ ব্লকে ৪৩ জন, আই ব্লকে ৪৯ এইভাবে ব্লক করে মাঝিরা ভাগ করে দায়িত্ব পালন করছে। আসলে এইসব দায়িত্ব পালন করার কোন নিয়ম নেই। এর পরেও অনৈতিক সুবিধা নিতে এইসব মাঝি সিন্ডিকেট গড়ে তুলো হয়েছে।
মাঝিরা হলো মো: ছিদ্দিক, নুরুল হুদা, সাইফুল ইসলাম, ওছিউর রহমান, জাফর আলম দুলু, জয়নাল আবেদ্দিন,মো: সোলিম,বুদজ মিয়া, সাহাব উদ্দিন, হেডম্যান আমির হোসেন, কামাল উদ্দিন, নুরুল হাকিম, মো: হোসেন মনু,নুরুল আবছার, শাহজাহান, লালু মাঝি,আমির হোসেন মাঝি,শামসুল আলম,সাহাদত হোসেন, হোসেন মাঝি, আয়ুব আলী, কবির আহাম্মদ, আব্দুল আমিন, আমির হোসেন, আবু ছিদ্দিক ও সিরাজ মাঝিসহ আরো কয়েক শতাধিক মাঝি রয়েছে। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ডাল,চাল বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রি ও টাকার ভাগ বসিয়ে নানা সুবিধা আদায় করছে তারা। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ওই সিন্ডিকেটের কাছে জমা দিতে হয়। সেখানে মাঝিদেরকেও কিছু ভাগের টাকা দেয় তারা। মানবতার আড়ালে ব্যপক অনিয়ম হচ্ছে যেন দেখার কেউ নেই।