ডুবো চরে ধাক্কা লেগেই ডুবে যায় ট্রলারটি : ১৪ মৃতদেহ ও ১৬ জন জীবিত উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ-৩০

R_pic_janaja-Copy.jpg

ফাইল ছবি

আব্দুল মাবুদ, শাহপরীরদ্বীপ প্রতিনিধি |

রোববার রাতে টেকনাফের নাফ নদীতে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি একটি ডুবোচরের সাথে ধাক্কা লেগেই ডুবে যায়। রাতের অন্ধকারে তখন ট্রলার থেকে নেমে যে যেদিকে পারে কুলে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে ¯্রােতের ধাক্কায় গভীর পানিতে তলিয়ে যায় নারী-শিশসহ অনেকে। বাবা-মায়ের হাত ফসকেই ডুবে যায় ছোট ছোট শিশুরা। ট্রলার বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত ও উদ্ধার রোহিঙ্গারা সবাই ছিল রাখাইনের বুচিডং থানার ফো-খম নামে একটি গ্রামের বাসিন্দা। ট্রলারের যাত্রীরা সবাই ছিল কয়েকটি পরিবারের সদস্য এবং পরস্পর আত্মীয়। রোববার রাত ৯টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীর ঘোলার চর এলাকায় ট্রলার ডুবির এ ঘটনা ঘটে।

এতে এখন পর্যন্ত ১১ শিশু ১ নারীসহ ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরা। উদ্ধার মৃতদেহগুলো দুই দফায় জানাযা শেষে সোমবার দুপুরে শাহপরীরদ্বীপের দুইটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী ফায়ার ব্রিগেড টীম লিডার কামাল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃতদেহ ও ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রলার ডুবিতে বেঁেচ যাওয়া মোঃ নুর, সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ হোসেন, রজক আলীসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত ৭টার দিকে রাখাইনের নাইক্ষংদিয়া এলাকা হতে ফো-খম নামক এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের প্রায় ৬০-৬৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশী একটি ট্রলারে যাত্রা শুরু করে। রাত ৯টার দিকে তাদের ট্রলারটি শাহপরীরদ্বীপের কাছাকাছি আসলে ঘোলার চর এলাকায় একটি ডুবো চরের সাথে ধাক্কা খেয়ে কাত হয়ে যেতে থাকে। এসময় সবাই ট্রলার থেকে নেমে পড়ে। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের কুলে, কাঁধে নিয়ে ও বয়স্কদের হাতে ধরে বাঁচার জন্য কুলের দিকে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু তখন নদীতে ছিল জোয়ার ও গলা সমান পানি। এসময় জোয়ার ও ঢেউয়ের ধাক্কায় বাবা-মায়ের হাত ফসকেই নদীতে তলিয়ে যায় শিশুরা। বয়স্করা তাল সামলাতে না পেরে ভেসে যেতে থাকে। শক্ত সামর্থ্য যুবকরা কেউ কেউ সাঁতরে কুলে উঠে। কয়েকজন নদীতে ভেসে থাকে।

শাহপরীরদ্বীপ বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, এসময় রোহিঙ্গাদের চিৎকার ও আর্তনাদের খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে ১৩ জনকে। তাদেরকে প্রাথমিক সেবা ও খাবার প্রদানের পর ক্যাম্পে প্রেরনের জন্য সকালে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরে আরও ৩ জনসহ ১৬জনকে জীবিত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এখনো নিঁেখাজ রয়েছে ৩০ জনের মতো।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খান জানান, সারা রাত কোস্টগার্ড ও বিজিবি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাট, গোলাচর, ও জালিয়াপড়া থেকে এগারো জন শিশুসহ ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় দেড় শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহপরীরদ্বীপ বাহারুম উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাও. হোসাইন আহমদ জানান, কোস্টগার্ড দাফনের জন্য মাদ্রাসার নিকট ৫ শিশু, ১ নারী সহ ৭ জনের লাশ হস্তান্তর করলে দুপুরেই নামাজে জানাযার পর তাদেরকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে জালিয়াপাড়া এলাকায় অপর ৬ রোহিঙ্গার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমবার রাতে টেকনাফ সীবীচ এলাকায় স্থানীয়রা অপর এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।