শাহপরীরদ্বীপে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থেমে নেই :নাইক্ষ্যংদ্বীয়ায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশের অপেক্ষায়

Teknaf-pic-08.10.17.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ :শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা স্রোত কমছেনা। থেমে থেমে রোহিঙ্গার দল আসছে। রাখাইন (আরাকান) রাজ্যের দক্ষিণাংশে রোহিঙ্গাদের উপর সে দেশের সেনাবাহিনী এবং উগ্ররাখাইন মিলে নতুন ভাবে দমন নিপীড়ন, নির্যাতন,ঘরবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ এবং নির্বিচারে পাখির মতো গুলিবর্ষণ করলে,অবশেষে রোহিঙ্গারা জীবনের মায়া-মমতা,ত্যাগ করে যার যা কিছু আছে,তা নিয়ে দলে দলে আসছে,শাহপরীরদ্বীপে। ইতিপূর্বে আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা প্রায় ১শত জন দালাল আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করার পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অনেকাংশে কমে গিয়েছিল। অনুসন্ধান করে জানা গেছে কয়েকটি কারণে শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা হচ্ছে, আদম ব্যবসার নামে দালাল,অবৈধ ঘাট প্রতা, নাফ নদীর তীরে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ,বিশেষ করে তাবলীগ জামায়াত ও মুখোশপড়া মাওলানা নামধারীরা হারিয়াখী ও শাহপরীরদ্বীপে অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। এ অর্থের বদৌলতে ওরা হাতছানি দিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের এভাবে পারাপারের নামে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে। যাহা বিভিন্ন অনলাইন,স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফালাওভাবে শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শাহপরীরদ্বীপে একাদিক নির্ভরযোগ্য সূত্র সংবাদর্মীদের কাছে মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে আসছে যে,শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া,মিস্ত্রি পাড়া,দাংগাপাড়া,ঘোলার পাড়া,দক্ষিণ পাড়া,বাজার পাড়া ও উত্তর পাড়ার প্রায় শতাধীক রোহিঙ্গ মানবপাচারকারী চক্র ও মাঝি রোহিঙ্গা পারাপারের নামে রমরমা বাণিজ্য করে আসছিল। এর মধ্যে নৌকা বোটের মালিক ও ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী রাখাব বোয়াল ১৫জন দালাল রোহিঙ্গা আদম বাণিজ্য করে অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে এখন রাজার হালতে জীবন যাপন করছে। এসব আলোচিত ও জনশ্রুত দালালেরা মিয়ানমারের দালালের সাথে যোগসাজশে রোহিঙ্গা পারাপার করার উদ্দেশ্যে সে দেশের মোবাইল সীম ব্যবহার করে ফোন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বিদেশে নিয়ে যাবে মর্মে খবর ছড়িয়ে দিলে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঢল নামে। দালালেরা সীমান্তের বিভিন্ন এজেন্সির লোকদের ম্যানেজ করে বেপরোয়াভাবে রোহিঙ্গা বাণিজ্য করে আসছিল। একাদিক সূত্র থেকে অভিযোগ উঠেছে,তালিকাভূক্ত প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দালালদের সমন্নয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারের স্বার্থে দিনের পরিবর্তে রাত্রে রোহিঙ্গা পারাপারকে ওরা নিরােপদ মনে করে আসছিল। এর উদ্দেশ্য ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচার। শরনার্থী বেসে রোহিঙ্গাদের আড়ালে চলে আসে বস্তা বস্তা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। বিজিবি ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ইয়াবার বড়ধরনের চালান আটক করেছিল। রোহিঙ্গা পারাপারে দালালের পাশাপাশি অনুপ্রবেশের আরো উৎসাহিত করে,স্থানীয় দুইটি মাদ্রাসা। গরু জবেহ করে রোহিঙ্গাদের জামাই আদরের ন্যায় খেদমতে নিয়োজিত ছিল। ওপাড়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পূর্বক খোজ নিয়ে জানা যায়,মিয়ানমারের মংডু এলাকায় নাইক্ষ্যংদ্বীয়ায় প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। জলযানের অভাবে রোহিঙ্গারা অনাহারে মানবেতর জীবন নিয়ে সাগর পাড়ে শাহপরীরদ্বীপে আসার প্রখর ঘোনছে। প্রসংগতঃ সাবরাং শাহপরীরদ্বীপ ইয়াবা কারবারী ও মানব পাচারকারী স্বর্গরাজ্যে হিসাবে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত। এরা এ ব্যবসা করে অসংখ্যা মা-বোনের কুলশুন্য এবং যুব সমাজের চরিত্র ও যুব সম্পদকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইয়াবা এবং মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে একাদিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। এ মামলা মাথায় নিয়ে ওরা ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ পানি ঘোলাও করে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানায়,শাহপরীরদ্বীপে মাঠ পর্যায়ে জরীপের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা মানব পাচারকারীর একটি দালালের তালিকা তৈরী হচ্ছে। এ তারিকায় প্রায় অর্ধশতাধিক দালালের নাম উঠে এসেছে।