ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে লড়লেন শুধু লিটন

Bangladesh.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক:বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামতেই ব্লুমফন্টেইনের ব্যাটিং-স্বর্গ পিচ যেন হয়ে গেল মাইন ফিল্ড। যেখানে অনায়াসে সেঞ্চুরি করে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার চার চারজন, সেখানে টিকতেই পারলেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফলো অনে পড়ে আরেকটি বিব্রতকর হারের শঙ্কায় মুশফিকুর রহিমের দল।
৪২৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ ৮ বল খেলে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করেছে। স্বাগতিকদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে তাদের চাই আরও ৪১৯ রান। ইমরুল কায়েস ৬ ও সৌম্য সরকার ১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লড়াই শুরু করবেন।
যে উইকেটে বেদম মার খেলেন বাংলাদেশের বোলাররা সেখানে অতিথি ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দিলেন কাগিসো রাবাদা, ডুয়ানে অলিভিয়েররা। পেসারদের দাপটে ৪২.৫ ওভারে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৭ রানেই গুটিয়ে যায়।
চার সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৪ উইকেটে ৫৭৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে নেয় ৪২৬ রানের বিশাল লিড। সেটা আরও বড় হয়নি লিটনের দৃঢ়তায়।
উইকেটে যে ভয়ের কিছু ছিল না সেটা প্রথম ইনিংসে দেখিয়েছেন তিনি। শুরুতে একটাই ভুল করেছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। স্লিপে ডিন এলগার হাতে জীবন পাওয়ার পর দেখা যায় অন্য এক লিটনকে।
চোখ ধাঁধানো সব কাভার ড্রাইভ, পুল আর অন ড্রাইভে প্রতিরোধ গড়েছেন। খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের যে খানিকটা আলো সেটা লিটনকে ঘিরেই।
বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা পারেননি তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি। অর্ধশতক পাওয়া লিটন ছাড়া প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যান কেবল ইমরুল কায়েস।
শর্ট বলের পরীক্ষায় উতরে গিয়ে সৌম্য সরকার রাবাদার বলে বোল্ড হলে লেগ স্টাম্পে। অলিভিয়েরের লেগ স্টাম্পের বলে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মুমিনুল হক।
মিডল অর্ডারের দুই ভরসা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ গেলেন আর এলেন। দুই জনই স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দেন। অধিনায়ককে ফেরান অলিভিয়ের। গালিতে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন টেম্বা বাভুমা।
ওয়েইন পার্নেলের অনেক বাইরের বল তাড়া করে চার হাঁকানোর পরের বলেই উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৯ রানে নেই চার উইকেট।
চা-বিরতির পর দ্রুত ফিরে দলের বিপদ বাড়ান ইমরুল আর সাব্বির। তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই রাবাদার স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ডি কককে সহজ ক্যাচ দেন ২৬ রান করা ইমরুল। রানের খাতাই খুলতে পারেননি সাব্বির।
২০তম ওভারে ৬৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়া বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে লিটন-তাইজুলের ব্যাটে। আসে ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ রানের জুটি। যথারীতি অগ্রণী ছিলেন লিটন, যতটা পেরেছেন সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল।
তাইজুলকে বোল্ড করে জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন অলিভিয়ের। এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি লিটন। রাবাদার বলে ঠিকভাবে পুল করতে না পেরে ধরা পড়েন ফাফ দু প্লেসির হাতে। ৭৭ বলে খেলা লিটনের ৭০ রানের ইনিংসটি সাজানো ১৩টি চারে।
এরপর বেশি দূর এগোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস। রুবেল হোসেনকে ফিরিয়ে অতিথিদের গুটিয়ে দেন রাবাদা। ৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার। নতুন বলে তার সঙ্গী অলিভিয়ের ৩ উইকেট নেন ৪০ রানে।
ফলো অন করতে নামা বাংলাদেশের আলোক স্বল্পতার জন্য বেশিক্ষণ খেলতে হয়নি। আট বল খেলে কোনো উইকেট হারায়নি তারা। তৃতীয় দিন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৫৭৩/৪ ডি.
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪২.৫ ওভারে ১৪৭ (ইমরুল ২৬, সৌম্য ৯, মুমিনুল ৪, মুশফিক ৭, মাহমুদউল্লাহ ৪, লিটন ৭০, সাব্বির ০, তাইজুল ১২, রুবেল ১০, মুস্তাফিজ ০, শুভাশিস ২*; রাবাদা ৫/৩৩, অলিভিয়ের ৩/৪০, পার্নেল ১/৩৬, মহারাজ ১/৭, ফেলুকওয়ায়ো ০/২৮)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১.২ ওভারে ৭/০ (ইমরুল ৬*, সৌম্য ১*; বারাদা ০/৬, অলিভিয়ের ০/১)